এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিঙ্গাপুর থেকে তার সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল এই স্বস্তিদায়ক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালের কেবিনে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে তার নিয়মিত থেরাপি ও আনুষঙ্গিক চিকিৎসা চলছে। সোহেল জানান যে, চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে থাকায় মির্জা আব্বাস আগের চেয়ে এখন অনেকটাই ভালো বোধ করছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসকে দেখতে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম। তারা সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও বর্তমানে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। এছাড়া বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও কয়েক দিন আগে সিঙ্গাপুরের এই হাসপাতালে গিয়ে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছিলেন।মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার প্রেক্ষাপট বেশ উদ্বেগের ছিল। গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে শাহজাহানপুরের নিজ বাসায় ইফতারের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দেশের প্রখ্যাত নিউরো চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ওই মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার তেমন কোনো স্থায়ী উন্নতি না হওয়ায় গত ১৫ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তার স্বাস্থ্যের প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন সেখানকার চিকিৎসকরা। সহকারী একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল আরও জানান যে, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি রাজনৈতিক কর্মী ও তার পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। তার সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিবিড় পরিচর্যায় তিনি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন বলে আশা করছেন দলের শীর্ষ নেতারা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন