জুন ২৪, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার (২০ জুন) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বল্লভপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার বাদী হয়ে এই মামলাটি করেছেন। বাদী নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করলেও স্থানীয় মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে।
কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান জানান, জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো স্তরেরই সদস্য নন এবং তিনি আগে যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে বাদী খোকন তালুকদার তাঁর দাবিতে অটল থেকে বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্য এবং নিজের নেতার মানহানি হওয়ায় তিনি সাধারণ নাগরিক ও কর্মী হিসেবে এই মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। বিশেষ করে একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি ফেসবুক আইডি থেকে সংসদ সদস্যের ছবি ব্যবহার করে তাঁকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এই ধরনের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
মামলাটিতে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ছাড়াও সদর দক্ষিণ এলাকার বাসিন্দা কাদের মিয়াজীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এই বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে করা মামলাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তারা বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করবেন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে এর বাইরে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন