নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৮:৪১ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি সমালোচনাই প্রমাণ করে যে এনসিপি একটি স্বতন্ত্র ও মধ্যপন্থী অবস্থানে রয়েছে। শনিবার (০১ নভেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির জেলা সমন্বয় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি বলে আমরা জামায়াত, আবার জামায়াত বলে আমরা বিএনপির। তার মানে আমরা ঠিক পথেই আছি। একসময় ডানপন্থীরা আমাদের বামপন্থী বলত, আবার বামপন্থীরা বলত আমরা ডানপন্থী। এর মানে আমরা মধ্যপন্থায় আছি। আমরা বিএনপি নই, জামায়াতও নই।’
তিনি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে কথা বলেন এবং রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বিপ্লবের সার্টিফিকেট যদি নিতে হয় চুপ্পুর (রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন) কাছ থেকে, তাহলে সেটা মানে ছোট হাসিনার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কাছ থেকে নেওয়া। আসলে উনারা বড়টার কাছ থেকে নিতে চায়, কিন্তু বলতে পারে না। একজন মুক্তিযোদ্ধাকেও যদি বলেন চুপ্পুর কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে, তাকে রাজি করাতে পারবেন না।’
জোট গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মৌলিক অবস্থান থেকে কখনো সরে যাইনি। জোটে কাকে নেব, তা আমরা ঠিক করব। যারা সংস্কার, ইনস্টিটিউশনাল ইনফরমেশন এবং কনস্টিটিউশন রিফর্মেশনের (সাংবিধানিক সংস্কার) পক্ষে থাকবে, তারাই আমাদের সঙ্গে থাকবে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশের সংস্কারের পক্ষে যারা, আমরা তাদের সঙ্গে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ব।’
জুলাই সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে এনসিপির বিলম্বিত অবস্থানকে যৌক্তিক দাবি করে তিনি বলেন, ‘অনেকে তো জুলাই সনদে সই করছেন। আগে আমরা বলেছিলাম, আগে (খসড়া) দেখাতে হবে তারপর আমরা সই করব কি না, ঠিক করব। তখন আমাদের বিরোধিতা করা হয়েছিল, এখন তারাই আমাদের পথে আসছে। জরিনার কথা বলে সকিনার সিগনেচার দেয়, এভাবে হবে না।’
এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও পটুয়াখালী জেলা সমন্বয়কারী জহিরুল ইসলাম মুসার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির বরিশাল বিভাগীয় সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন