শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ঈদে নতুন পোশাক পরার সময় যে দোয়া পড়া সুন্নাত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২১, ২০২৬, ০৮:০৯ এএম

ঈদে নতুন পোশাক পরার সময় যে দোয়া পড়া সুন্নাত

ছবি Ai

ঈদুল ফিতরের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো নতুন পোশাক পরিধান করা। উৎসবের এই দিনে নতুন বস্ত্র মানুষের মনে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। তবে ইসলাম ধর্মে নতুন কাপড় পরিধানকে কেবল আত্মতৃপ্তি নয়, বরং মহান আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ নিয়ামতের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, নতুন পোশাক পরার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত নির্দিষ্ট কিছু দোয়া পাঠ করার নিয়ম রয়েছে। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি সওয়াব লাভ করেন।

হাদিস শরিফে নতুন পোশাক পরার একাধিক দোয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। হজরত সাহাল ইবনে মুআজ ইবনে আনাস (রা.) তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো নতুন কাপড় পরার পর নির্দিষ্ট দোয়া পড়বে, আল্লাহ তাআলা তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। দোয়াটির উচ্চারণ হলো, আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি কাসানি হাজা ওয়া রাজাকানি-হি মিন গায়রি হাওলিম মিন্নি ওয়ালা কুওয়াতিন। 

এর অর্থ হলো, সব প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, যিনি আমাকে এই কাপড় পরিয়েছেন এবং আমাকে এটি আমার কোনো প্রচেষ্টা ও শক্তি ছাড়া দিয়েছেন। বুখারি ও আবু দাউদ শরিফে এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।

নতুন কাপড় পরিধান করার সময় পড়ার জন্য আরও একটি দোয়ার কথা জানা যায়। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) নতুন কাপড় পরার সময় একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন। এর উচ্চারণ হলো, আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি কাসানি মা উয়ারি বিহি আওরাতি ওয়া আতাঝাম্মালু বিহি ফি হায়াতি। এর অর্থ, সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে কাপড় পরিয়েছেন, যা দিয়ে আমি লজ্জাস্থান ঢেকে রাখি এবং জীবনে সৌন্দর্য লাভ করি। তিরমিজি শরিফে এই হাদিসের উল্লেখ রয়েছে।

হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নতুন কাপড় পরার সময় প্রথমে সেটির নাম নিতেন, যেমন পাগড়ি, জামা অথবা চাদর। এরপর তিনি পড়তেন, আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আনতা কাসাউতানিহি আসআলুকা মিন খাইরিহি ওয়া খাইরি মা সুনিআ লাহু ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা সুনিআ লাহু। 

যার অর্থ, হে আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য। এটি আপনি আমাকে পরিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যে উদ্দেশ্যে এটি বানানো হয়েছে তার কল্যাণ চাইছি। আর এর মধ্যে নিহিত ক্ষতি এবং যে উদ্দেশ্যে এটি বানানো হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। তিরমিজি ও নাসাঈ শরিফে এটি বর্ণিত হয়েছে।