মে ১৭, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
ইহরাম বাঁধার পর থেকে হজের নির্ধারিত আমল সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কিছু বিষয় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ও বড় নিষেধাজ্ঞা হলো স্ত্রী সহবাস। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ১৯৭ নম্বর আয়াতে হজের নির্দিষ্ট মাসগুলোতে সহবাস ও সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অশ্লীল আচরণ, পাপাচার ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৯ জিলহজ উকুফে আরাফাহ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে সহবাস করলে জমহুর ফকিহগণের মতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হজ সম্পূর্ণ ফাসিদ বা বাতিল হয়ে যাবে।হজ ফাসিদ হওয়া সত্ত্বেও মাঝপথে তা ছেড়ে দেওয়া যাবে না এবং সাধারণ হাজিদের মতোই বাকি সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
এই ভুলের কারণে কাফফারা হিসেবে একটি উট বা গরু কোরবানি করা ওয়াজিব হয় এবং সামর্থ্য না থাকলে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সাতটি ছাগল দিতে হবে। এছাড়া পরবর্তী বছর এই হজ পুনরায় কাজা করা বাধ্যতামূলক।
তবে আরাফাতে অবস্থানের পর কিন্তু কঙ্কর নিক্ষেপ ও হলক করার মাধ্যমে তাহাল্লুলে আউয়াল অর্জিত হওয়ার আগে সহবাস করলে হজ ফাসিদ হবে না। এটি একটি কবিরা গুনাহ এবং এর কাফফারা হিসেবে একটি উট বা গরু কোরবানি দিতে হবে।১০ জিলহজ কঙ্কর নিক্ষেপ ও হলক সম্পন্ন করার মাধ্যমে তাহাল্লুলে আউয়াল অর্জিত হওয়ার পর এবং তাওয়াফে জিয়ারতের আগে সহবাস হলে হজ সহিহ থাকবে। এ ক্ষেত্রে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী একটি ছাগল বা দুম্বা কোরবানি করা ওয়াজিব হলেও অন্যান্য মাজহাবে এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন মত রয়েছে।
ইহরামের এই বিধান লঙ্ঘনে অজ্ঞতা বা ভুলকে হানাফি মাজহাবে ওজর হিসেবে গ্রহণ করা হয় না, তবে শাফিয়ি মাজহাবে ক্ষেত্রবিশেষে ছাড়ের অবকাশ রয়েছে। হজের এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেন তবে স্বামীর মতো একই বিধান ও কাফফারা তাঁর ওপরও প্রযোজ্য হবে।কিন্তু স্ত্রীকে বাধ্য করা হলে জমহুর ফকিহের মতে তাঁর ওপর কোনো গুনাহ বা পৃথক কাফফারা আসবে না। তবে জবরদস্তির শরয়ি সংজ্ঞায় সূক্ষ্ম মতভেদ থাকায় এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞ মুফতির পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জিনায়াতজনিত দমের গোশত নিজে ভক্ষণ না করে কোরবানি পশুর মতো করে হারামের সীমানার ভেতরের ফকির-মিসকিনদের মধ্যে বণ্টন করা ওয়াজিব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন