মে ১৭, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিমের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যার কাছে প্রয়োজন-অতিরিক্ত এই সম্পদ থাকবে তাকেই এই আমল করতে হবে। পবিত্র কোরআনের সুরা কাওসারের দুই নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় ও কোরবানি করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই ইবাদতের বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করে পশুর প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সাথে সাথেই গোনাহ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছেন।কোরবানির এই মহান আমল সুন্নাহসম্মত উপায়ে সম্পন্ন করার জন্য পশুর রক্ত প্রবাহিত করার সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে।
ইসলামে খাদ্য প্রস্তুত ও গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি ইবাদত এবং তাকওয়ার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ায় কোরবানির পশু জবাই করার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট মৌলিক শর্ত রয়েছে। জবাইকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বুঝমান মুসলমান কিংবা কোনো আসমানি কিতাবের অনুসারী তথা আহলে কিতাব হতে হবে।
জবাইয়ের শুরুতে অবধারিতভাবে মহান আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে হবে এবং গলার দিক থেকে ধারালো অস্ত্র চালাতে হবে। পশুর শ্বাসনালি, খাদ্যনালি ও দুটি শাহরগের অন্তত একটি কেটে রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।ভুলবশত আল্লাহর নাম বাদ পড়লে জবাই সহিহ হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ নাম ছেড়ে দিলে শরিয়ত অনুযায়ী সেই পশুর মাংস খাওয়া পুরোপুরি নাজায়েজ। সমাজে প্রচলিত আড়াই পোচে পশু জবাই করার বাধ্যবাধকতাটি মূলত একটি ভুল প্রচলন মাত্র। আসল মাসআলা হলো পশুর রগ কেটে রক্ত প্রবাহিত করে দেওয়া, তা যত পোচেই সম্পন্ন হোক না কেন। তবে পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট না দেওয়ার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি স্কলার শায়খ শামছুদ্দীন দুর্লভপুরি জানান, জবাইয়ের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য যদি একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত না হয় তবে সেই খাদ্য হালাল হয় না। পশু জবাইয়ের সময় সুন্নাহসম্মত দীর্ঘ আরবি দোয়াটি পাঠ করা উত্তম হলেও পুরোটি না পারলে অন্তত `বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার` বলা বাধ্যতামূলক। ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার জানান, আল্লাহর নাম নেওয়া ছাড়া কোনোভাবেই কোরবানি জায়েজ হবে না।
কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া
إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا، وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ، وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ، اللَّهُمَّ مِنْكَ، وَلَكَ....بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر
উচ্চারণ: ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজ ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়ালআরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতি ওয়ানুসুকি ওয়ামাহইয়ায়া ওয়ামামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। লা-শারিকালাহু ওয়াবিজালিকা উমিরতু ওয়াআনা আওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা।...বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। (সুনানে আবু দাউদ: ২৭৯৫, সুনানে ইবনে মাজাহ: -৩১২১)


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন