শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

কোরবানির পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ বা মাকরুহ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৯, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

কোরবানির পশুর যেসব অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ বা মাকরুহ

কোরবানির পশুর মাংস বা বিভিন্ন অঙ্গ খাওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়তে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও বিধিনিষেধ রয়েছে। হালাল পশুর সব অংশই ঢালাওভাবে খাওয়ার উপযোগী নয় বরং কিছু অংশ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা ধর্মীয় পরিভাষায় মাকরুহ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন প্রামাণ্য ফতোয়া ও ইসলামিক স্কলারদের ব্যাখ্যা থেকে জিলহজ মাসের আসন্ন কোরবানির পশুর বর্জনীয় অংশগুলোর এই ইসলামি বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে।

পশুর ভেতরের প্রবাহিত রক্ত খাওয়া পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ।ইসলামি ফিকহ ও ফতোয়ার কিতাবসমূহের বিবরণ অনুযায়ী জবেহ করা পশুর সাতটি অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ অথবা মাকরুহে তাহরিমি তথা গুনাহের কাজ হিসেবে চিহ্নিত। 

এই বর্জনীয় অংশগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে পশুর শরীর থেকে প্রবাহিত রক্ত যা খাওয়া শরিয়তে পুরোপুরি অবৈধ। এর বাইরে পশুর মূত্রথলি, পিত্তথলি, নর বা মাদি পশুর জননেন্দ্রিয় এবং পশুর শরীরের ভেতরে থাকা গুটি বা টিউমারের মতো মাংসগ্রন্থি খাওয়া যাবে না। পশুর চামড়ার নিচে বা মাংসের ভেতরে থাকা এই সুনির্দিষ্ট অঙ্গগুলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপছন্দ করতেন এবং এগুলো পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

হাদিস ও ফিকহের বিখ্যাত গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়াসহ বিভিন্ন শরিয়াহ নীতিমালায় এই বর্জনীয় অংশগুলোর সুনির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া হয়েছে। অনেকেই কোরবানির পশুর তিল্লি বা প্লীহা এবং মগজ খাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন তবে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী পশুর তিল্লি ও কলিজা খাওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ। একইভাবে পশুর হাড়ের ভেতরের মজ্জা বা মগজ খাওয়া নিষিদ্ধ নয় বরং এটি হালাল ও খাওয়ার উপযোগী অংশ হিসেবে গণ্য হয়। তবে পশুর ঘাড়ের দুই পাশে থাকা বিশেষ দুটি হলুদ রঙের দীর্ঘ রগ বা স্নায়ু যা চর্বির মতো দেখায়, তা রান্না করার সময় বাদ দেওয়া উত্তম বলে আলেমরা জানিয়েছেন।

পশু জবেহ করার পর কসাই বা মাংস কাটার সময় এই নিষিদ্ধ ও মাকরুহ অংশগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আলাদা করে ফেলে দেওয়া উচিত। অসচেতনতার কারণে অনেক সময় পিত্তথলি ফেটে মাংস তেতো হয়ে যায় বা মূত্রথলির অংশ মাংসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উচিত কোরবানির ধর্মীয় পবিত্রতা ও সঠিক নিয়ম বজায় রাখার স্বার্থে পশুর চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস প্রস্তুতের সময় এই বর্জনীয় অঙ্গগুলো সম্পূর্ণ আলাদা করে মাটিতে পুঁতে ফেলা বা নিরাপদ স্থানে ধ্বংস করা। রাসুলের সুন্নাহ ও শরিয়তের এই সঠিক নির্দেশনাগুলো মেনে চলা প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব বলে ধর্মীয় নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।