বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

কৃষি ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ধান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে ধানের শীষ বের হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মড়ক দেখা দেওয়ায় বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক কৃষকের অভিযোগ মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা সহযোগিতা পাচ্ছেন না। 

ফলে নিরুপায় হয়ে নিজেদের উদ্যোগে বাজারে পাওয়া বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করেও ফসলের মড়ক ঠেকাতে পারছেন না মেহনতি কৃষকরা।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর কসবা উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। 

গত বছর এ অঞ্চলে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় এবার আবাদের পরিমাণ আরও প্রায় ২৫ হেক্টর বেড়েছে। বিদ্যুত ও জ্বালানি সংকটের মতো প্রতিকূলতা কাটিয়ে ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা বোরো চাষ করেছিলেন। 

তবে ধানের শীষ বের হওয়ার পর যখন দানা বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ঠিক তখনই হঠাৎ করে এই সংক্রমণের আক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।তদন্তে দেখা গেছে উপজেলার বিনাউটি, বাদৈর ও মেহারী ইউনিয়নে এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে মূলত ব্রি-২৮ এবং ব্রি-৮৮ জাতের ধান খেতগুলোতেই এই নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ বেশি ঘটছে।

 

কৃষক বিদু ও দোলন মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান আগে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বদলি হওয়ার পর বর্তমান কর্মকর্তাদের মাঠে তেমন একটা দেখা যায় না। জরুরি সময়ে কোনো পরামর্শ না পেয়ে তারা নিজেদের মতো করে কীটনাশক প্রয়োগ করছেন কিন্তু তাতে কোনো কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।কৃষকদের দাবি ফসল বিক্রি করেই তাদের সারা বছরের সংসার চালানো এবং চাষাবাদের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হয়। 

এখন যদি ধান নষ্ট হয়ে যায় তবে পরিবার নিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার স্বীকার করেছেন যে কিছু এলাকা নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন ব্রি-২৮ ও ব্রি-৮৮ এখন বেশ পুরনো জাত হয়ে গেছে যার ফলে এসব ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে কৃষকদের নতুন ও উন্নত জাত চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই রোগের বিস্তার ঘটে জানিয়ে তিনি বলেন কৃষি অফিস থেকে বর্তমানে সরকারি প্রণোদনাসহ সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।