শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

সাতক্ষীরার নদ-নদীতে বাড়ছে লবণাক্ততা, হুমকির মুখে কৃষি

কৃষি ডেস্ক

জুন ৬, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

সাতক্ষীরার নদ-নদীতে বাড়ছে লবণাক্ততা, হুমকির মুখে কৃষি

সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের নদ-নদীতে লবণাক্ততার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ গবেষণায় এই অঞ্চলে লবণাক্ততার এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। পানি ও মাটিতে লবণের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় মাঠের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

খোলপেটুয়া নদীতে লবণাক্ততার মাত্রা এখন ৫৫ ডেসিসিমেন্স পার মিটার।স্বাভাবিক অবস্থায় নদীতে এই লবণের মাত্রা থাকার কথা ছিল মাত্র ৩ ডেসিসিমেন্স পার মিটার। 

এই চরম বৈরী পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় সবুজায়ন, ঐতিহ্যবাহী কৃষি খাত এবং সামগ্রিক জনজীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রান্না, ধোয়া-মোছা এবং গৃহস্থালি কাজের ক্ষেত্রেও এখন মিঠা পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লোনা পানির আগ্রাসনে কেবল ফসলের জমি নয়, বরং মিঠা পানির মাছ চাষও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লবণের প্রভাবে গাছপালা মরে যাওয়ার পাশাপাশি উপকূলের নারীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিচ্ছে। এর ওপর বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়িবাঁধের ফাটল দিয়ে লোকালয়ে লোনা পানি ঢুকে পড়ায় চাষাবাদের জমিগুলো স্থায়ীভাবে উর্বরতা হারাচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ টেকসই ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। বাকি ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো সংস্কারের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী নদী ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উপকূল সুরক্ষা ছাড়া লবণাক্ততার এই তীব্র আগ্রাসন ঠেকানো কঠিন হবে।