জুন ৭, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
চাকরির পেছনে না ছুটে সম্পূর্ণ নতুন উপায়ে কোয়েল পাখি পালন করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এক যুবক। চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা শেষ করে এবং পশুপাখি চিকিৎসার ওপর সংক্ষিপ্ত কোর্স নিয়ে তিনি এই খামার শুরু করেন। বর্তমানে এক হাজার কোয়েল পাখি থেকে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
বাণিজ্যিক কোয়েল খামারে এখন লোকসানের আশঙ্কা একেবারেই নেই।অনলাইন থেকে মাত্র ২০০টি বাচ্চা সংগ্রহ করে ঘরের খাটের ওপরেই প্রথম ব্রুডিং শুরু করেছিলেন এই তরুণ।
প্রথমবারেই সাড়ে তিন হাজার টাকা লাভ হওয়ার পর তার কাছে ব্যাপক চাহিদার অর্ডার আসতে শুরু করে। এরপর তিনি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার পাখি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে খামারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করেন। যেখানে একটি হাঁস বা মুরগি ডিম দিতে প্রায় ছয় মাস সময় নেয়, সেখানে কোয়েল পাখি মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ডিম দেওয়া শুরু করে।
এই পাখি এক স্কয়ার ফিট জায়গায় অনায়াসে আটটি পালন করা সম্ভব এবং এদের দৈনিক খাবার খরচ মাত্র ২০ থেকে ২৫ গ্রাম। ওষুধসহ একটি ডিমের উৎপাদন খরচ মাত্র এক টাকা ২০ পয়সা হলেও পাইকারি বাজারে তা দুই টাকা ৮০ পয়সা থেকে সাড়ে তিন টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। টানা ১০ থেকে ১২ মাস ডিম দেওয়ার পর এসব বয়োবৃদ্ধ পাখি পুনরায় মাংসের জন্য ভালো দামে বিক্রি করে দেওয়া যায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটের মেজবান বা বিভিন্ন বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে এই পাখির মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
বর্তমানে এই সফল উদ্যোক্তার নিজস্ব একটি হ্যাচারি রয়েছে যেখানে দুটি স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সাহায্যে প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ কোয়েল পাখির বাচ্চা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় ইনকিউবেটরে ডিম রাখার ১৭ দিনের মাথায় বাচ্চা ফুটে বের হয়। ডিম সংগ্রহের পর গুণগত মান যাচাই করে এ গ্রেডের ডিমগুলোই কেবল মেশিনে পাঠানো হয়। সঠিক হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং খামারের নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোয়েল পালন একটি অত্যন্ত লাভজনক পেশা হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন