শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

চাকরি ছেড়ে কোয়েল পালনে অভাবনীয় সাফল্য

কৃষি ডেস্ক

আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

চাকরি ছেড়ে কোয়েল পালনে অভাবনীয় সাফল্য

অল্প বেতনের পোশাক কারখানার চাকরি ছেড়ে দিয়ে কোয়েল পাখির খামার গড়ে তুলে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন এক অদম্য উদ্যোক্তা দম্পতি। ‍‍`শারমিন কোয়েল খামার‍‍` নামের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাত্র পঞ্চাশ থেকে ষাটটি পাখি নিয়ে তাদের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে তাদের সেই ছোট্ট খামারটি একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক রূপ লাভ করেছে, যেখানে পাখির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এগারো হাজারে। 

সমাজের মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও উপহাসকে জয় করে তারা প্রমাণ করেছেন যে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমে যেকোনো ছোট উদ্যোগও একসময় বিশাল আকার ধারণ করতে পারে।গার্মেন্টসের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও স্বল্প আয়ের কারণে সৃষ্ট পারিবারিক হতাশা থেকেই তারা বিকল্প আয়ের এই সম্ভাবনাময় পথ বেছে নিয়েছিলেন।খামারি স্বামী জানান যে শুরুর দিকে সমাজের অনেকেই এত ছোট পাখি ও এর ছোট ডিম বিক্রি করে সংসার চালানোর ধারণা নিয়ে তীব্র হাসিঠাট্টা করত। 

অনেকেই বলত, এত ছোট পাখি কেউ খাবে না বা কিনবে না। কিন্তু স্ত্রীর বুদ্ধিমত্তা ও অদম্য সাহসের ওপর ভরসা রেখেই তিনি এই পেশায় টিকে থাকার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, মানুষ বলে বউয়ের বুদ্ধি নিতে নেই, কিন্তু তার কপাল খুলেছে বউয়ের বুদ্ধিতেই। একসময় যারা তাকে নিয়ে উপহাস করত, আজ তারাই তার কাছে কর্মসংস্থান ও উপার্জনের পরামর্শ নিতে ভিড় করে। সাধারণ ডিমের চেয়ে কোয়েল পাখির ডিমে আমিষ ও ভিটামিন-ই অনেক বেশি থাকায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এর পুষ্টিগুণ বোঝানোর পর বর্তমানে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা ও জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে এই খামারে প্রতি সপ্তাহে প্রায় সাত থেকে দশ হাজার জিরো কোয়েল পাখির বাচ্চা সফলভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। খামার পরিচালনার শুরুর দিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গাদাগাদি করে বহু পাখি মারা যাওয়ায় একবার তিন থেকে চার লাখ টাকার বড় ধরনের লোকসান হয়েছিল। তবে সেই বিশাল ধাক্কা সামলে উঠে তারা ধীরে ধীরে পাখির সংখ্যা পাঁচশ থেকে তিন হাজারে উন্নীত করেন এবং তা এখন এগারো হাজারে পৌঁছেছে। 

কোয়েল পালনে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এই সফল খামারি লিটার বা মেঝের ব্যবস্থাপনাকে সর্বদা শুষ্ক রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন, কারণ লিটার ভিজে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হলে পুরো খামার দ্রুত ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণ সমাজকে নিজেদের পায়ে স্বাবলম্বী হওয়ার এবং সৎ পরামর্শ নিয়ে নতুন কৃষি উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে পরিচিত হওয়া এই সফল খামারি।