আগস্ট ১, ২০২৬, ১০:৫০ এএম
বাংলাদেশের পথের ধারের নারী যৌনকর্মীদের কেউই স্বেচ্ছায় এই পেশায় আসেননি। শৈশবের চরম দারিদ্র্য, পারিবারিক ভাঙন, ঘরছাড়া হওয়া এবং সহিংসতার শিকার হওয়া—প্রধানত এই চারটি কাঠামোগত কারণই তাদের এই পথে ঠেলে দিয়েছে বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারী নারীদের জীবনকাহিনি বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখিয়েছেন যে এটি নিছক কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং গভীর সামাজিক সংকটের ফল।পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে এটি সম্পূর্ণভাবে একটি কাঠামোগত সমস্যা।
আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘কালচার অ্যান্ড সাইকোলজি’-তে সম্প্রতি এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাইন্ডওয়েল রিসার্চ ল্যাব’-এর অধীনে এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল গবেষণাটি পরিচালনা করে। বিভিন্ন শহরের আঠারো থেকে পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী ত্রিশজন পথভিত্তিক নারী যৌনকর্মীর মনস্তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা ও জীবনসংগ্রাম এতে স্থান পেয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী নারীদের নিরানব্বই শতাংশের বেশি অর্থাৎ নব্বই শতাংশের অধিক নারী এই পেশায় যুক্ত হওয়ার আগেই গুরুতর শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এছাড়া অর্ধেকের বেশি নারী অল্প বয়সেই পরিবার বা ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং পেটের টানে শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকার তাগিদেই তারা এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।
গবেষক দলের প্রধান ড. আজহারুল ইসলাম জানান, গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রতিটি নারীর পেছনেই দারিদ্র্য ও নির্যাতনের অভিন্ন ইতিহাস রয়েছে। তাই সমস্যার মূলে আঘাত হানতে হলে ঘটনার পরে সহায়তা নয়, বরং সংকট তৈরির আগেই প্রতিরোধমূলক সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সবচেয়ে জরুরি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন