এস.এম. রকি
নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৬:০১ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালটি উদ্বোধনের চার বছর পরেও এর সেবা কার্যক্রম চালু হয়নি। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও জনবল নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক বাজেট না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
এতে একদিকে যেমন কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তেমনি নিরাপত্তাহীনতার কারণে চুরি যাচ্ছে কয়েক লক্ষাধিক টাকার গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আত্রাই নদের তীরে জিয়া সেতু মোড়ে নির্মিত দুই তলা হাসপাতালটির মূল গেটে তালা ঝুলছে।
ভবনের পাশে রয়েছে তিনটি আবাসিক কোয়ার্টার, রান্নাঘর, গ্যারেজ ও বিদ্যুৎ স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা। তবে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভবনের বেশিরভাগ জায়গায় ধুলা, মাকড়সার জাল এবং আগাছায় ভরে গেছে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হাসপাতালের ভেতর থেকে বিদ্যুতের তার ও ভারী যন্ত্রপাতিসহ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
এদিকে, খানসামা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম এ এস এম রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, খানসামা ২০ শয্যা হাসপাতালটির বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা। দ্রুত বিল পরিশোধের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে লিখিত চিঠির মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নির্মিত এই হাসপাতালটি প্রথমে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে এনে সীমিত আকারে বহির্বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট থাকায় সেই উদ্যোগও পরে বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজিদ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত টাকা খরচ করে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলো, কিন্তু চিকিৎসা সেবা তো চালু হলো না। এখন পুরো ভবনটা মরুভূমির মতো পড়ে আছে। বারবার বলেও কোনো সমাধান পাইনি।” হাসপাতালটি চালু হলে এই এলাকার গোবিন্দপুর, টংগুয়া, বেলপুকুরসহ পার্শ্ববর্তী বীরগঞ্জ ও নীলফামারী সদর উপজেলার বাসিন্দারাও উপকৃত হতেন। কিন্তু নিরুপায় হয়ে এসব এলাকার রোগীদের এখনো নিয়মিত জেলা সদর বা অন্য উপজেলায় চিকিৎসার জন্য ছুটতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালটির অবকাঠামো অত্যন্ত ভালো। কিন্তু জনবল ও আর্থিক বরাদ্দ না থাকায় সেবা চালু করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। নিয়মিত সেবা চালুর বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ২০ শয্যা হাসপাতালটি চালু করা হলে তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটবে। হাসপাতালটিতে সেবা কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।