এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
দিনাজপুরের সর্বত্র মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে। আগে যেখানে শুধুমাত্র রাতে মশার উৎপাত দেখা যেত, এখন দিনেও সমানভাবে মশার আক্রমণে নাজেহাল দিনাজপুর শহরের নাগরিকরা। মশার প্রকোপ বাড়ার সুযোগে বিভিন্ন কয়েল ও স্প্রে ব্যবসায়ীর বিক্রি বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমছে না।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন, নর্দমা ও জলাবদ্ধ স্থানে সঠিকভাবে জীবাণুনাশক না ছিটানোর কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। মশার উপদ্রবের কারণে মসজিদে নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের ভোগান্তি বাড়ছে।
একইভাবে বাড়িতে শিশু ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের আশঙ্কাও ক্রমেই বাড়ছে। পৌর এলাকার উপশহর, খালপাড়া, মেদ্দাপাড়া, রামনগর, নতুনপাড়া ও বড়বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংগঠক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু এ প্রসঙ্গে জানান, মশা কয়েকগুণ বেড়েছে। মাঝে-মধ্যে ঝড়-বৃষ্টিতে সাময়িকভাবে মশা কিছুটা কমলেও পরে আবার তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পৌরসভার বেশির ভাগ নালা ও ড্রেনের সংস্কার না হওয়ায় নাগরিক ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দিনাজপুর শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ঘাঘড়া ক্যানেল এখন দুর্গন্ধযুক্ত পানি ও ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। এসব আবর্জনার ভাগাড়ে জন্ম নিচ্ছে অগুনতি মশা ও জীবাণু, যা পৌরবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
উপশহরের বাসিন্দা সবুর চৌধুরী ও ফারুক হোসেনসহ কয়েকজন জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করা হয় না। যদিও বা পরিষ্কার করা হয়, তা কেবল হাতেগোনা কয়েকটি স্থানে। ফলে ড্রেনের পানি আটকে থাকছে এবং সেখানেই মশা বংশবিস্তার করছে। দ্রুত কীটনাশক ছিটানো এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণের ওপর তাঁরা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
দিনাজপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন মশক নিধন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, মশক নিধনের প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। তবে বর্তমানে মশা নিধনের ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন ওষুধ পাওয়া যাবে। বর্তমানে মশা নিধনের কিছু ওষুধের স্যাম্পল রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই মুহূর্তে মশার প্রকোপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন