বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

‘কল্পরখো’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বর্ণাঢ্য শিশু উৎসবে মুখরিত মহিলা সমিতি মিলনায়তন

মরাজুল ইসলাম শাকিল

অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ০১:০০ পিএম

‘কল্পরখো’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বর্ণাঢ্য শিশু উৎসবে মুখরিত মহিলা সমিতি মিলনায়তন

শিশুদের মাঝে মানবতা ও সংস্কৃতিবোধ জাগ্রত করার প্রত্যয়ে কাজ করে যাওয়া শিশু-সংগঠন 'কল্পরখো' তাদের প্রতিষ্ঠার পঞ্চদশ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গত ২৭ অক্টোবর (সোমবার) মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য শিশু-উৎসবের আয়োজন করে।

২০১০ সালের ২রা জুলাই যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনের এবারের উৎসবের শিরোনাম ছিল 'মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেকে করো জয়'। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলা এবং শিশুদের মেধা বিকাশে তাদের ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়।

উৎসবের প্রথম পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্যে কল্পরখোর সাধারণ সম্পাদক তামান্না তিথি সংগঠনের মূল লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ভবিষ্যতের বড় শিল্পী হবার লক্ষ্যে নয়, বরং রুচি ও কর্মে একজন বিবেকবান, সচেতন ও সুন্দর মনের মানুষ হবে কল্পরখো শিশুরা— এই ভাবনা নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম।"

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কল্পরখোর সভাপতি মীর বরকত। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল ইমরুল কায়েস (অব.), অধ্যক্ষ, হাবীবুল্লাহ্ বাহার কলেজ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ডেপুটি কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) আরআরএফ, ঢাকা এবং কল্পরখোর অভিভাবক ইনামুল হক সাগর। শিক্ষার্থী আরিশা নাসের-এর শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে শিশুদের পক্ষ থেকেও বার্তা দেওয়া হয়। প্রথম পর্ব উপস্থাপনা করে রূপকথা ও মেহেজাবিন।

দ্বিতীয় পর্ব ছিল শিশুদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় মুখরিত। এই পর্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর লেখা থেকে নেওয়া নাটক ও আবৃত্তিতে অংশ নেয় কল্পরখোর কোমলমতি সদস্যরা। মষ্টিু, মুসাররাত, প্রমিতা ও জয়িতার উপস্থাপনায় শিশুরা বিভিন্ন প্রযোজনা মঞ্চস্থ করে।

কাজী নজরুল ইসলাম-এর রচনা থেকে পরিবেশিত হয়: খোকার সাধ, খুকী ও কাঠবিড়ালি, খোকার গপ্প বলা, লিচুচোর, কানামাছি, খাঁদু দাদু এবং সাহেব ও মোসাহেব।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর রচনা থেকে পরিবেশিত হয়: মাস্টারবাবু, অন্য মা, রাজা রানী, আমাদের ছোট নদী, ইচ্ছামতি এবং বীরপুরুষ।

বিভিন্ন প্রযোজনায় আলভী, প্রাচ্য, রায়ান, আরিয়া, আরিনি, ইশায়াত, জাফরিন, মাহমি, মিথিলা, জয়িতা, অনিল্লা, মাকনুন, অক্ষর, রিয়াছা, মেহেজাবিন-সহ আরও অনেক শিশু অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানের শেষে তামান্না তিথি সকল শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে রবীন্দ্রনাথের বাণী উদ্ধৃত করেন: 'মুক্ত করো ভয়, আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেকে করো জয়।' অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনে অভিভাবকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।