শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

ঢাকায় শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক সেবা বন্ধ,বাড়ছে যানজট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

ঢাকায় শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক সেবা বন্ধ,বাড়ছে যানজট

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষার্থীদের খণ্ডকালীন ট্রাফিক সহায়ক সেবাটি হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাব দেখিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এই কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর ফলে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্বরত আট শতাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও ডিএমপির যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। মূলত ট্রাফিক পুলিশের ওপর বাড়তি কাজের চাপ কমাতে এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বনির্ভরতার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

তবে সম্প্রতি অর্থ বরাদ্দের সংকটে এই সেবা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করে এই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী, যাঁরা এই খণ্ডকালীন কাজের ওপর নির্ভর করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন।

সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুহাম্মদ মিয়ান দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে ট্রাফিক সহায়ক হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তাঁর মতে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন অন্তত এক মাস আগে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলে তাঁরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতেন।

রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির প্রভাব ইতিমধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তেজগাঁও ও মতিঝিলের মতো এলাকাগুলোতে যেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও পথচারী সামলাতে শিক্ষার্থীরা তৎপর থাকতেন সেখানে যানজট আগের চেয়ে বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন শিক্ষার্থীদের সক্রিয়তার কারণে রাস্তা অনেকটা শৃঙ্খলার মধ্যে ছিল যা এখন পুলিশের একার পক্ষে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান যে পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে আপাতত শিক্ষার্থীদের নিয়োগ বহাল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করার সুফল পুলিশ বিভাগ পেয়েছে। তাই তাঁদের পুনরায় কাজে ফেরাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন কর্মকর্তারা।