মে ১০, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা। একইসঙ্গে সোমবার (১১ মে) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের `শিক্ষক সমাজ`-এর ব্যানারে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
চলমান এই সংকটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং একজন সিন্ডিকেট সদস্য পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারী প্রক্টর হলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং সিন্ডিকেট সদস্য হলেন ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার।শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২০ এপ্রিল থেকে পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলন করে আসছিলেন।
সংকট নিরসনে ৩০ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনার ও উপাচার্যের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে শিক্ষকদের দাবি, ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উপাচার্য একক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে রাতে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকালে একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ, ওই সভায় অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং সংকট সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে রোববার সকালে শিক্ষকদের সাধারণ সভায় উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা ও শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আগামী সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অন্য শিক্ষকদেরও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সাধারণ সভায়।সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার জানান, সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের দাবির পক্ষে কথা বললেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। একারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করা সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, উপাচার্য শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করায় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।শিক্ষক নেতা ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক জানান, দীর্ঘদিন আলোচনার চেষ্টা করেও সমাধান না পাওয়ায় শিক্ষকরা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানান, গত সিন্ডিকেট সভায় সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসন বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে আন্তরিক। পদত্যাগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, তার কাছে এখনো কোনো লিখিত চিঠি আসেনি, তবে দুজন শিক্ষক মৌখিকভাবে অব্যাহতির কথা জানিয়েছেন।এদিকে শিক্ষকদের এই কর্মসূচির ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত এই সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন