মে ১১, ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। সোমবার (১১ মে) পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরপরই তিনি তার এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
শিক্ষকতা জীবনের সাত বছর পার করলেও এর আগে কখনো প্রশাসনিক পদাভিষিক্ত হওয়ার ইচ্ছা তার ছিল না বলে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন। তবে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের বিশেষ অনুরোধে তিনি এই বড় দায়িত্ব গ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। `নতুন বাংলাদেশ` গড়ার স্বপ্ন আর নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই তিনি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন।
পোস্টে মোনামি তার সদ্য সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত দুই বছর তার কাছ থেকে তিনি ধৈর্য, আত্মসম্মান এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি হাসিমুখে মোকাবিলা করার অসাধারণ সব গুণ শিখেছেন।
মোনামির মতে, প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ তার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের মমতায় আগলে রাখতেন এবং তারা সেই টিমের সদস্য হিসেবে একই আদর্শ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার যে অভিজ্ঞতা তাদের হয়েছে, তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিরল বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এমন কঠিন পরিস্থিতি এর আগে কোনো প্রক্টরিয়াল টিম ফেস করেনি এবং সম্ভবত ভবিষ্যতেও করবে না।নিজের সফলতার হিসাব না কষলেও একটি দারুণ টিমের সঙ্গে কাজ করতে পারাকে তিনি পরম সম্মানের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর এবং তার পুরো টিমের প্রতি অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। উল্লেখ্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগের পর পরই শেহরীন আমিন মোনামি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই পোস্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই তার দায়িত্বশীলতা ও সপ্রতিভ নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন