সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঢাবির সহকারী প্রক্টরের পদ ছাড়লেন অধ্যাপক শেহরীন মোনামি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

ঢাবির সহকারী প্রক্টরের পদ ছাড়লেন অধ্যাপক শেহরীন মোনামি

ঢাবির সহকারী প্রক্টর মোনামি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া যিনি মোনামি নামেই বেশি পরিচিত। সোমবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

পদত্যাগের বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিশ্চিত করেছেন যা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় তার এই হঠাৎ প্রস্থানকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে এখন নানা গুঞ্জন চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে যে প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের পদত্যাগের পরপরই শেহরীন আমিন ভূঁইয়া এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। 

নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে আসছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই হঠাৎ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পদত্যাগপত্রের অনুলিপি এরই মধ্যে উপাচার্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে তার যে সুনাম রয়েছে তা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল বলে অনেকে মনে করেন।

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রক্টরের পদটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্টরের পদত্যাগের পর সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগ করার ঘটনাটি প্রশাসনিক সংহতির অংশ হিসেবে দেখা হতে পারে। শেহরীন আমিন ভূঁইয়া তার মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমে একটি শূন্যতা তৈরি হলো যা পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নতুন করে ভাবতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই পদত্যাগকে আকস্মিক হিসেবে দেখছেন কারণ নতুন প্রশাসনিক পর্ষদ গঠিত হওয়ার খুব বেশিদিন হয়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই পদত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি তবে ক্যাম্পাসে গুঞ্জন রয়েছে যে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এমন পরিবর্তন আসতে পারে। লোকপ্রশাসন বিভাগের এই কৃতি শিক্ষক তার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রশাসনিক এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন তিনি পুনরায় পূর্ণকালীনভাবে তার বিভাগীয় একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে শূন্য হওয়া এই পদগুলোতে দ্রুতই নতুন মুখ দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। শিক্ষা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে এই পরিবর্তনের প্রভাব ক্যাম্পাসে কেমন হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।