এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
দেশের তিন বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বরিশালে দুজন এবং ময়মনসিংহ ও সিলেটে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ড ও আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে।বরিশাল ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এর আগের দিনও একই হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে এ বছর বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ও রোগ শনাক্ত হওয়ার পর মোট ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত এক দিনে নতুন করে ৬৫ জন শিশু বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে যার ফলে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১০ জনে।
চলতি বছরে এ বিভাগে মোট ১ হাজার ১৯০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন যাদের মধ্যে ৫৭ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল সকালে এই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহ নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২০ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৪৪ জন শিশুকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে যাদের মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭২ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ১০ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। তবে গত এক দিনে ২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।এদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) আজ দুপুরে দিব্য নামের সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এক দিনের ব্যবধানে সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে মোট তিন শিশুর প্রাণহানি ঘটল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে শিশুটির স্থায়ী ঠিকানা প্রকাশ করেনি। ক্রমবর্ধমান এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর ও গায়ে দানাদার র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন