জুন ১৯, ২০২৬, ১১:১২ পিএম
গ্রীষ্মের তীব্র গরমে এখন চারপাশেই হরহামেশা মিলছে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু কচি তালের শাঁস। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এই গ্রীষ্মকালেই পাওয়া যাওয়া বিশেষ ফলটি মানব শরীরের নানাবিধ পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদেরা। এটি খেতে যেমন রসালো ও নরম, তেমনই এর নানাবিধ স্বাস্থ্যগত গুণাগুণও অনেক বেশি।কচি তালের শাঁসের পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুণ সাহায্য করে।
এই সুস্বাদু ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি সহ পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও জিংকের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। এর পাশাপাশি তালের শাঁসে বিদ্যমান শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। মিরপুর ইসলামি ব্যাংক হসপিটাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শরীফা আক্তার শাম্মী জানান যে গরমের এই সময়ে তালের শাঁস খাওয়া সবার জন্যই ভালো।
তবে এটি সবসময় ভরা পেটে খেলেই শরীর সবচেয়ে বেশি পুষ্টি উপাদান সহজে গ্রহণ করতে পারে।কচি তালের শাঁস মূলত শরীরে পানিশূন্যতা দূর করে তাৎক্ষণিকভাবে সতেজতা ও শীতল অনুভূতি এনে দেয়। নিয়মিত এটি খেলে লিভারের নানাবিধ সমস্যা দূর হয় এবং শরীরে আয়রনের মারাত্মক ঘাটতি সহজে পূরণ করা সম্ভব হয়। যাদের দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা তীব্র গরমে হজমের সমস্যা রয়েছে তারা নিজেদের দৈনিক খাদ্য তালিকায় তালের শাঁস রাখতে পারেন। চোখের ক্ষতিকর অ্যালার্জি ও চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ার মতো সমস্যা প্রতিরোধেও এই ফলটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এর বাইরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শুষ্ক ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতেও তালের শাঁস দারুণ কাজ করে। তবে প্রাকৃতিক চিনি গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মাত্রা বেশি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের এটি অতিরিক্ত খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত। এছাড়া যাদের তালজাতীয় খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে কিংবা ঠান্ডা প্রকৃতির কারণে ডায়রিয়া বা পেট ফাঁপার সমস্যা হয়, তাদেরও এটি সাবধানে খাওয়া প্রয়োজন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন