মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,

স্মার্টফোন ও পিসির দাম কেন বাড়ছে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম

স্মার্টফোন ও পিসির দাম কেন বাড়ছে

Ai - ছবি

দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিপণ্যের স্বাভাবিক নিয়ম ছিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে আসা, তবে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে গেমিং কনসোল ও গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক্সের দাম এখন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে বাজেটবান্ধব ডিভাইসগুলো এখন প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিশ্ববাজারে প্রযুক্তিপণ্যের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টারের জন্য মেমোরি চিপের বিপুল চাহিদাকে দায়ী করা হচ্ছে।চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও মেটা এআই-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলো পরিচালনার জন্য বিশাল ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন হয়, যেখানে প্রচুর পরিমাণে হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি বা এইচবিএম ব্যবহৃত হয়। 

স্যামসাং এবং এসকে হাইনিক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় মেমোরি নির্মাতারা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ এআই কোম্পানিগুলোর জন্য বরাদ্দ করেছে। এমনকি আগামী কয়েক বছরের জন্য এই মেমোরি উৎপাদনের স্লটগুলো আগাম বুকিং করে রাখা হয়েছে। ফলে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহৃত সাধারণ র‍্যাম এবং এসএসডির চরম সংকট তৈরি হয়েছে, যা স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।আন্তর্জাতিক বাজারের এই সংকটের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। 

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি শুল্ক, মুদ্রাস্ফীতি এবং আনুষঙ্গিক খরচের কারণে দেশে প্রযুক্তিপণ্যের দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৬ গিগাবাইট ডিডিআর-ফাইভ র‍্যামের দাম কয়েক বছর আগে সাত থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ২৮ থেকে ২৯ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এন্ট্রি লেভেল বা ১৫ হাজার টাকার স্মার্টফোনগুলো এখন ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার ফলে অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াইয়ে কম দামি ফোন তৈরি থেকে সরে আসছে।

সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বাজার বিশ্লেষকরা। এআই ডেটা সেন্টারের চাহিদা যতদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকবে, ততদিন পর্যন্ত মেমোরি চিপের এই কৃত্রিম সংকট বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের শুধু প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিপণ্য কেনা এবং অন্তত চার থেকে পাঁচ বছর ব্যবহার করা যায় এমন কনফিগারেশনের ডিভাইস নির্বাচনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।