ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে যখন ইরান সরাসরি ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে। শনিবার এই বড় মাপের সামরিক অভিযানের পর ইসরায়েলজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ সেদেশের নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আইডিএফের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে তারা আকাশপথে আসা অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করেছে এবং দেশটির শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব হুমকি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে এটি ইরান থেকে পরিচালিত প্রথম বড় আকারের এবং সরাসরি ড্রোন আক্রমণ।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে ছায়া যুদ্ধের মাধ্যমে হামলা পরিচালিত হলেও এবার সরাসরি তেহরান থেকে পরিচালিত এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পাল্টা জবাব দিতেই তারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।এদিকে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সাইরেন বাজানো হচ্ছে এবং জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই হামলায় বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যা ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এই হামলার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করছে। এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানালেও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই সরাসরি সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় সামরিক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন