এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দেওয়া কড়া হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানজুড়ে একাধিক রেলপথ, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ হামলায় দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
হামলার ঠিক আগেই আইডিএফ ইরানের নাগরিকদের ১২ ঘণ্টা ট্রেন ব্যবহার না করতে এবং রেলপথ থেকে দূরে থাকার বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছিল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক ঘণ্টায় তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আধাসরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির কাশান শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সেতুতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, কারাজ শহরে একটি প্রধান রেললাইনে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সেখান থেকে মারাত্মক আহত একজনকে উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় কোম প্রদেশে সড়কপথের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেতু লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাবরিজ-তেহরান মহাসড়কের একটি বড় অংশ হামলার শিকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা উপপ্রধান জানিয়েছেন, আহওয়াজ শহরের একটি ব্যস্ত সড়কেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে বর্তমানে তাবরিজ ও জানজান শহরের মধ্যকার মহাসড়কটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্যারেহ চামান-মিয়ানেহ সড়কটিও উভয় দিক থেকে বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরএনও। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে, এই হামলার লক্ষ্যবস্তু কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, বরং আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা সহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনাও আক্রান্ত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন