এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনী (আইডিএফ) তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বিবৃতির মাধ্যমে ইরানের আটটি সেতুতে সফল হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর হুঁশিয়ারি ও নীতিগত নির্দেশনার পরপরই এই হামলা চালানো হয়।
আইডিএফ জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া এই আটটি সেতু ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও ভারী অস্ত্র পরিবহনের কাজে ব্যবহার করত।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তেহরানসহ কারাজ, তাবরিজ, কাশান ও কোম এলাকার বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। মূলত আইআরজিসির রসদ সরবরাহের পথ রুদ্ধ করতেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
এক বিবৃতিতে আইডিএফ উল্লেখ করেছে, তারা ইরানের সামরিক গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আইআরজিসি এই সেতুগুলোর মাধ্যমে তাদের সমরাস্ত্র এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় সরিয়ে নিচ্ছিল। হামলার ফলে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এই হামলায় প্রাণহানির সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুমকি প্রদান করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে, হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য তার দেওয়া আলটিমেটামের সময় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, আজ রাতেই একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা আর কখনোই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বার্তার পরপরই ইসরায়েলি হামলার খবর আসায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ট্রাম্প অবশ্য তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এমন ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি চান না। তবে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আসার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, হয়তো আরও বুদ্ধিমান ও কম কট্টরপন্থীদের মাধ্যমে চমৎকার কিছু ঘটতে পারে। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।
হামলার পর ইরানের বিভিন্ন শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তেহরান ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত দেশটিকে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের জন্য অপ্রস্তুত করে দিতে চাইছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনার পরবর্তী প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এখন তেহরানের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন