বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের দাবি নাকচ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:৩২ এএম

মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের দাবি নাকচ করল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সফলভাবে অতিক্রম করার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও তেহরান একে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ওই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যেকোনো ধরনের নৌযান চলাচলের পূর্ণ কর্তৃত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতেই রয়েছে।

এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ— ‘ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসন’ এবং ‘ইউএসএস মাইকেল মারফি’ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। 

বর্তমানে জাহাজ দুটি আরব সাগরে অবস্থান করে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে দাবি করা হয়। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছিল যে, এই অভিযানটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি কর্তৃক পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইনগুলো অপসারণ করে এই প্রণালিকে পুরোপুরি নিরাপদ করা।

তবে সেন্টকমের এই দাবিকে মুহূর্তেই চ্যালেঞ্জ করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এই মার্কিন দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষায়, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজগুলোর অগ্রসর হওয়া এবং প্রবেশের বিষয়ে সেন্টকম কমান্ডার যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। তিনি আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, এই অঞ্চলের যেকোনো জাহাজের যাতায়াত এবং চলাচলের সার্বিক উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব শুধু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতেই ন্যস্ত।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন পাল্টাপাল্টি দাবি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনাকে নতুন করে বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালির ওপর তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা বলে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করার কথা বলে নিজেদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রাখতে চাইছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তার ইস্যুটি এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে নজরদারি আরও জোরদার করেছে তেহরান।