মে ১৪, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে রাজ্যটির নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। নতুন নির্দেশনায় জনসমাগমস্থলে বা উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর ক্ষমতায় এসেই এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নতুন সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গরু, ষাঁড়, বলদ, মহিষসহ যে কোনো পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের দেওয়া ‘ফিটনেস সনদ’ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই সনদ ছাড়া কোনোভাবেই কোনো পশু জবাই করা যাবে না।
পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠিন শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে নতুন এই বিজ্ঞপ্তিতে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হলে এবং সেটি যদি প্রজনন বা কাজ করার ক্ষমতা হারায়, তবেই কেবল জবাইয়ের অনুমতি মিলবে। এছাড়া আঘাত বা দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম পশুর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এই ফিটনেস সনদটি সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসককে যৌথভাবে প্রদান করতে হবে।নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জবাইয়ের অনুমতি পাওয়া পশু কেবল নির্দিষ্ট কসাইখানা বা প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসম্মুখে কোনোভাবেই পশু জবাই করা যাবে না। নিয়ম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা এলাকা পরিদর্শন করতে পারবেন এবং এই কাজে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপি জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া এই ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হবে একটি আমলযোগ্য অপরাধ।সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসে বিজেপি। ওই নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠনের পরই এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ম কার্যকরে প্রশাসন ইতোমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন