বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

ইউটিউবের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা : আড়াই কোটি ডলারে সমঝোতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ১২:৪০ পিএম

ইউটিউবের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা : আড়াই কোটি ডলারে সমঝোতা

ছবি - সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা একটি মামলায় সমঝোতার অংশ হিসেবে ইউটিউব তাকে প্রায় আড়াই কোটি ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার পর তার চ্যানেল স্থগিত করায় ট্রাম্প এই মামলা করেছিলেন। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রাম্পের চ্যানেল স্থগিত করা হয়েছিল। তবে সমঝোতার ফলে মামলাটি এখন খারিজ করা হয়েছে। গুগল এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।এই সমঝোতাটি ট্রাম্পের জন্য প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে আরেকটি উল্লেখযোগ্য জয়।

এর আগে ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা এ বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের সঙ্গে ২৫ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা করে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) ফেব্রুয়ারিতে ১০ মিলিয়ন ডলারে আরেকটি মামলা মীমাংসা করে।ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ আইনজীবী জন কোয়াল জানান, মামলাগুলো শেষ হওয়ায় তিনি খুশি।

কোয়াল দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক ই-মেইলে লেখেন, "আমরা খুশি যে, ২০২১ সালের জুলাইয়ে করা মামলাগুলো ৬০ মিলিয়ন ডলারে শেষ হলো। আমরা অর্থ পেয়েছি এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আচরণেও পরিবর্তন এসেছে।" তিনি আরও মন্তব্য করেন, "যদি ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত না হতেন, তবে এই মামলাগুলো এক হাজার বছর আদালতে ঝুলে থাকত।"

মেটার কাছ থেকে পাওয়া অর্থের বেশির ভাগই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টিয়াল লাইব্রেরি ফান্ডে যাচ্ছে। আর ইউটিউব থেকে পাওয়া অর্থের মধ্যে ২২ মিলিয়ন ডলার ট্রাম্প বরাদ্দ করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মল পুনর্নির্মাণ এবং হোয়াইট হাউসের একটি বিলাসবহুল হলরুম নির্মাণে সহায়তার জন্য। ওই হলরুম নির্মাণে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি ইউটিউব ট্রাম্পের চ্যানেল ৭ দিনের জন্য স্থগিত করেছিল। ওইদিন তিনি এক ভিডিওতে দাবি করেছিলেন, ক্যাপিটল হামলার আগে দেওয়া তার ভাষণ ছিল 'সম্পূর্ণ যথাযথ'। এরপর ইউটিউব অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দেয়। যদিও ২০২৩ সালের মার্চে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ইউটিউব তার চ্যানেল ফিরিয়ে দেয়। চ্যানেল ফিরে পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প পোস্ট করেন, "আমি ফিরে এসেছি!"

উল্লেখ্য, প্রথমে তিনটি মামলাই আদালতে টিকে থাকার মতো অবস্থায় ছিল না। ২০২২ সালে ফেডারেল বিচারক 'টুইটার'র মামলা খারিজ করেন, আর মেটা ও ইউটিউবের মামলাগুলো স্থগিত হয়ে যায়। তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর তার আইনজীবীরা মামলা পুনরায় শুরু করার আবেদন করেছিলেন।