মে ৪, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। ওই সরকারের সময় গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতাও রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ রোববার (৩ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। সোমবার (৪ মে) আইনজীবী নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রিটে কেবিনেট সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সব কর্মকাণ্ড অনুসন্ধানের জন্য কমিশন গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছে।
রিটের বিষয়ে আজ দুপুর একটায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী।এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই আইনজীবী রিট আবেদন করেছিলেন। তখন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে দেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছিলেন এবং পর্যবেক্ষণসহ লিভ টু আপিলটি খারিজ করে দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। এরপর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সময় সরকার গঠন ও উপদেষ্টাদের শপথের আগে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চেয়ে রেফারেন্স পাঠিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতির বিশেষ রেফারেন্সের প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মতামত দেন যে, সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি নির্বাহী কার্য পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগ ও শপথ পাঠ করাতে পারবেন। সেই সাংবিধানিক মতামতের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন আবার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন এই রিট আবেদন করা হলো।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন