শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

সকালের মাত্র ৫ মিনিটের অভ্যাসে সারাদিন কমবে মানসিক চাপ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ১১:৪১ এএম

সকালের মাত্র ৫ মিনিটের অভ্যাসে সারাদিন কমবে মানসিক চাপ

মানসিক চাপ এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক সঙ্গী হয়ে গেছে। কিন্তু নিউরোসায়েন্টিস্টদের মতে, মানসিক চাপ কমানো শুরু হতে পারে দিনের সবচেয়ে প্রথম মুহূর্ত থেকেই। সকালে মাত্র কয়েক মিনিট নিজের জন্য রাখার অভ্যাসই সারাদিন আপনাকে হালকা, শান্ত ও মনোযোগী রাখার ক্ষমতা রাখে।

ভারতীয় নিউরোসায়েন্টিস্ট ডা. শ্বেতা আদাতিয়া জানান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে বড় কোনো জীবনযাপন পরিবর্তন দরকার নেই।

বরং প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার ধরনটি বদলালেই আপনি পাবেন দৃশ্যমান উপকার। তিনি বলেন, দিনের শুরু যেমন হবে, মস্তিষ্কও সেই অনুযায়ী সারাদিন কাজ করবে।

ডা. আদাতিয়ার মতে, ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়ো করা, ইমেইল চেক করা বা কাজ শুরু করে দেওয়া মস্তিষ্কের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে।কর্টিসল ও স্নায়ুতন্ত্র: মনোবিদ গুরলিন বারুয়ার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসল হরমোন স্বাভাবিকভাবে বাড়ে। ঠিক তখনই যদি আমরা ব্যস্ততায় ঝাঁপিয়ে পড়ি, স্নায়ুতন্ত্র হঠাৎ অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে। মস্তিষ্ক ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় বিরক্তি, মনোযোগের ঘাটতি এমনকি বার্নআউট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।

ঘুম ভাঙার পরে অন্তত কয়েক মিনিট নিজেকে সময় দেওয়া বা ধীরে ধীরে জাগ্রত হওয়ার প্রক্রিয়া মস্তিষ্ককে তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সাহায্য করে। নিউরোসায়েন্টিস্টদের মতে, ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি আমরা আলফা ও থিটা মস্তিষ্ক-তরঙ্গের অবস্থায় থাকি:

আলফা (Alpha): শান্ত অথচ সচেতন অবস্থা, যা হালকা মেডিটেশন বা স্বপ্নিল চিন্তার সময় ঘটে।

থিটা (Theta): গভীর সৃজনশীলতা ও চিন্তনের অবস্থা, যা ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী মুহূর্তে ঘটে।

সকালে ধীরে ধীরে ওঠা, নীরবে বসে থাকা বা স্ক্রিন না দেখা এই অবস্থাগুলো বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে মাথা পরিষ্কার হয়, মন শান্ত থাকে, আর সিদ্ধান্ত গ্রহণে উন্নতি ঘটে।

মনোবিদ গুরলিন বারুয়ার মতে, এই ছোট বিরতিগুলিই স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং মানসিক চাপ ‘রিসেট’ করার সুযোগ দেয়।

ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে ফোন না দেখা।

মাত্র কয়েক মিনিট হালকা স্ট্রেচিং বা নীরবে বসা।

হালকা জার্নালিং বা দিনের পরিকল্পনা লেখা।

বক্স ব্রিদিং (৪-৪-৪-৪ সেকেন্ডের শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম)।

ছোট গাইডেড মেডিটেশন।

দিনের শুরুটা ধীরে ও সচেতনভাবে করুন। ঠিক মতো ঘুমান, আর জেগে উঠেও নিজের শরীরকে সময় দিন। এতেই সারাদিনের মানসিক চাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।