এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১১:২৪ এএম
প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে সতেজ ও আর্দ্র রাখার ক্ষেত্রে ডাবের পানির কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। অনেকে সাময়িক তৃষ্ণা মেটাতে ডাবের পানি পান করলেও এটি যদি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা যায়, তবে শরীরের ভেতরে বেশ কিছু চমকপ্রদ ও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ৩০ দিন নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে শরীরের পানির ভারসাম্য ফিরে আসার পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাতেও লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে।
তবে এই পরিবর্তনগুলো সাধারণত রাতারাতি ঘটে না, বরং এক মাসের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় শরীরের প্রতিটি কোষে এর প্রভাব অনুভূত হয়।
ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ বা ইলেকট্রোলাইট থাকে। হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গরম আবহাওয়ায় শরীরকে সতেজ রাখতে সাধারণ পানির তুলনায় ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
টানা এক মাস নিয়মিত ডাবের পানি পান করার ফলে শরীরের কোষগুলো ভেতর থেকে পুনরুজ্জীবিত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এর ফলে শরীরে এক ধরনের সতেজতা বজায় থাকে যা দৈনন্দিন কাজে উদ্দীপনা জোগাতে সাহায্য করে।হৃদযন্ত্র ও পেশির সুরক্ষাতেও ডাবের পানির ভূমিকা অপরিসীম। এতে থাকা উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য এটি একটি প্রাকৃতিক স্পোর্টস ড্রিংক হিসেবে কাজ করে।
মাস শেষে নিয়মিত পানের ফলে পেশির ক্লান্তি ভাব অনেকাংশে কমে আসে এবং হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসকদের মতে, যারা দীর্ঘক্ষণ বাইরের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাদের জন্য ডাবের পানি ক্লান্তি দূর করার অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস।যাঁদের পেটে গ্যাস কিংবা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য ডাবের পানি এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এটি চর্বিমুক্ত হওয়ায় পরিপাকতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে না। নিয়মিত ৩০ দিন পানের ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটির মাত্রা কমে আসে এবং পেট ফাঁপা বা খাবার পরবর্তী অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।
পরিপাক প্রক্রিয়া সচল থাকায় শরীরে একটি হালকা অনুভূতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে শরীরের ভেতরের আর্দ্রতা নিশ্চিত হওয়ার কারণে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পর্যাপ্ত খনিজ সমৃদ্ধ তরল গ্রহণ করলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে এবং ত্বক নিস্তেজ দেখায় না।তবে ডাবের পানি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষ করে যাঁদের কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, তাঁদের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তাই কিডনি রোগীরা ডাবের পানি পান করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও রক্তে শর্করার মাত্রা বুঝে এটি পরিমিত পরিমাণে পান করা উচিত। ডাবের পানি পুরোপুরি চিনিমুক্ত না হওয়ায় অতিরিক্ত পানে রক্তে শর্করার হেরফের হতে পারে। প্রকৃতিপ্রদত্ত এই পানীয়টি আপনার জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, তবে শারীরিক বিশেষ অবস্থায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন