শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

পরিবারের ডায়াবেটিস: সন্তানের ঝুঁকি কমাতে যা করণীয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ৯, ২০২৬, ১০:৫২ এএম

পরিবারের ডায়াবেটিস: সন্তানের ঝুঁকি কমাতে যা করণীয়

পরিবারে বাবা, মা বা ভাইবোনের কারও ডায়াবেটিস থাকলে অনেক অভিভাবকই দুশ্চিন্তায় থাকেন যে সন্তানেরও একই সমস্যা হতে পারে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, বংশগত কারণে ঝুঁকি বাড়লেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. নিশান্ত রাইজাদা ও এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. অনুপম বিশ্বাসের পরামর্শ অনুযায়ী, জিনগত প্রভাব থাকলেও শিশুর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক সক্রিয়তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। 

চিকিৎসকরা জানান, পারিবারিক ইতিহাস ঝুঁকি বাড়ালেও শিশুর খাবার, ওজন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকলে এ ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটবেলা থেকেই শিশুকে তাজা ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও ভালো চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে পরিচিত করা উচিত। অন্যদিকে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ফাস্টফুড নিয়মিত খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

শুধু খাবার নয়, প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ানো, সাইকেল চালানো, সাঁতার, ফুটবল বা নাচের মতো শারীরিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থূলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।পর্যাপ্ত ঘুমও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। ঘুমের অভাব ক্ষুধা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশনের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

এছাড়া অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া বা ঘাড় ও বগলের ত্বকে কালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পরিবারের জেনেটিক ইতিহাসের চেয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ডায়াবেটিস প্রতিরোধে মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।