রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য: আইনমন্ত্রী

গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও বিকাশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর তাই দেশের সাধারণ মানুষ সবসময় একটি স্বাধীন, নির্ভীক ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রত্যাশা করে।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পত্রিকাটির কার্যালয় পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি পত্রিকাটির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। 

এ সময় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে পত্রিকাটির কার্যালয়ে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিভিন্ন স্থান সশরীরে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। ওই সহিংস ঘটনার স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখে আইনমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মো. আসাদুজ্জামান সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণতন্ত্রকে মজবুত ভিত্তির ওপর টিকিয়ে রাখতে হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। অতীতে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম যেভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে, তা আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র এমন একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত কাজ পরিচালনা করতে পারবে। 

সাংবাদিকরা যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধার সম্মুখীন না হন, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে। সরকার চায় বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ ধরে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাক। এই যাত্রায় যত ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করার লক্ষে কাজ চলছে।ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। 

এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়, বরং মুক্ত চিন্তার ওপর আঘাত। ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো দুঃখজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি এই সহিংসতার স্মৃতিগুলোকে দুঃস্বপ্নের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বর্তমান প্রশাসন সেই দুঃসময় থেকে গণমাধ্যমকে উত্তরণের পথ দেখাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে দেশে সুস্থ সাংবাদিকতার পরিবেশ আরও সুসংহত হবে।