অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশের জন্য আবারও শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে মালয়েশিয়া। নতুন প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপে মোট ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক দেশটিতে কাজের সুযোগ পাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। কর্মী পাঠানোর এই নতুন উদ্যোগে সংখ্যার চেয়ে পেশাগত দক্ষতার ওপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
শ্রমমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট চাহিদামাফিক বাংলাদেশেই প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের মানসম্মতভাবে গড়ে তোলা হবে। প্রথম ধাপে নির্ধারিত এই ১০ হাজার কর্মীকে কোনো প্রকার অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঠানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিদেশি নিয়োগকারীদের চাহিদার ভিত্তিতে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেল এবং সরকারের অনুমোদিত বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে।
নতুন এই ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠছে মালয়েশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের বাস্তব চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে। সেখানে কোন ধরনের পেশায় কতজন কর্মী প্রয়োজন, তা আগেই উভয় দেশের যৌথ পর্যালোচনায় চূড়ান্ত করা হবে এবং সেই অনুযায়ী দেশে প্রশিক্ষণের অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে। অদক্ষ ও অপ্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো হলে প্রবাসে গিয়ে তারা নানা জটিল আইনি ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হন। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঠেকাতেই সম্পূর্ণ দক্ষতা নিশ্চিত করে কর্মী ছাড়পত্র দেওয়ার এই কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার নিয়োগকারী প্রতিনিধিরা সরাসরি বাংলাদেশে এসে নিজেদের চাহিদা ও মানদণ্ড অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন করবেন এবং নির্বাচিতদের ধাপে ধাপে পাঠানো হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনই চূড়ান্তভাবে শুরু হয়নি। কর্মীদের স্বাস্থ্যগত মেডিকেল পরীক্ষাসহ কয়েকটি নীতিগত বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে চাহিদা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিধিবিধান চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
পূর্বে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট, অস্বাভাবিক অভিবাসন ব্যয় এবং কর্মীদের নানামুখী হয়রানির তিক্ত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। নতুন প্রক্রিয়ায় বোয়েসেলের সঙ্গে বৈধ বেসরকারি এজেন্সিগুলোকে যুক্ত করার রূপরেখা থাকলেও অভিবাসন ব্যয় ও স্বচ্ছতার নিয়মাবলী কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হবে।
বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বেকারত্ব দূর করতে চলতি বছরের মধ্যেই বিশেষায়িত এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সরাসরি যোগাযোগ—উভয় ব্যবস্থায় চাকরিপ্রার্থী এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জনবল চাহিদা নির্ধারণ এবং দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাকরির মেলা ও ক্যারিয়ার মেলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
এছাড়া দেশের শ্রমিকদের জীবনমান বিবেচনায় চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা সম্পন্ন করে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন