জুন ২, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রাষ্ট্রদর্শন এবং তাঁর প্রবর্তিত আদর্শের সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধের সুগভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়ে বুদ্ধিজীবী মহলে নানা তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ রয়েছে। অনেকের মতে, তিনি মূলত একটি স্বনির্ভর দেশ গড়ার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক উৎপাদন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার ওপর এককভাবে জোর দিয়েছিলেন।
তবে গভীর পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে বাল্যকাল থেকেই তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সুদৃঢ় ইসলামি ভাবাদর্শের ওপর গড়ে উঠেছিলেন এবং আল্লামা ইকবালের সাম্যের দর্শন দ্বারা বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ সেনা নেতৃত্ব থেকে শুরু করে পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের গৃহীত পদক্ষেপ কোরআন ও সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষার আলোকেই উৎসারিত হয়েছিল।পঁচাত্তরের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই তিনি দেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শনপূর্বক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ব্যাপক বিস্তার ঘটান।
জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে ধর্মীয় শিক্ষার আবহে ঢেলে সাজাতে তিনি ১৯৮০ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে বিশেষ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন এবং কুষ্টিয়ায় প্রথম ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া উম্মাহর অবহেলিত কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ১৯৭৬ সালে ওআইসি সম্মেলনে তাঁর দূরদর্শী প্রস্তাবের ফলেই গাজীপুরের টঙ্গীতে আন্তর্জাতিক ইসলামি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় বা আইইউটি গড়ে ওঠে।সংবিধানে ঐতিহাসিক সংশোধনের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা তাঁর সবচেয়ে বড় আদর্শিক পদক্ষেপ ছিল।
পূর্বতন বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে তিনি এমন এক ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক `বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ` প্রবর্তন করেন যা ধর্মকে বর্জন না করে বরং স্বকীয়তার সাথে আত্মস্থ করে। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় রাতারাতি কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পরিবর্তে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণে সমাজে স্থায়ী ইনসাফ কায়েমে এক যুগোপযোগী ক্রমনীতি অনুসরণ করেছিলেন। তৎকালীন ভঙ্গুর সামাজিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার গৃহীত এই কৌশলগত রাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণভাবে ইসলামি আদর্শেরই প্রতিফলন ছিল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন