বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

চট্টগ্রামে ইসলামী আন্দোলনের সব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

চট্টগ্রামে ইসলামী আন্দোলনের সব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ভোটের মাঠে চরম বিপর্যয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই অঞ্চলের ২৩টি আসনের মধ্যে ২০টিতে তারা প্রার্থী দিলেও কোনো আসনেই জামানত রক্ষা করতে পারেননি দলটির কোনো নেতা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় তাদের সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। 

প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রামের মাঠ মূলত বিএনপি ও জামায়াতের দখলে থাকলেও কয়েকটি আসনে ইসলামী ফ্রন্ট ও খেলাফতে মজলিসের চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। 

এমনকি দলের চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর মো. জান্নাতুল ইসলাম চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৫ লাখ ভোটারের বিপরীতে পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার ৮৮০ ভোট। উত্তর চট্টগ্রামের চিত্র আরও করুণ; সেখানে কোনো প্রার্থীই উল্লেখযোগ্য ভোট টানতে পারেননি। চট্টগ্রাম-১ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী নুরুল আমিনের এক লাখ ২৮ হাজার ভোটের বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের ফেরদৌস আহমেদ পেয়েছেন মাত্র দুই হাজার ১০৮ ভোট। 

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। কক্সবাজার-২ আসনে দলটির সর্বোচ্চ আট হাজার ৭৯৯ ভোট পেলেও তা জামানত রক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল না। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও হাতপাখার প্রার্থীরা চার হাজারের নিচেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। এই অভাবনীয় ভরাডুবির কারণ জানতে চাইলে নগর আমীর জান্নাতুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, মানুষ ‍‍`ক্ষমতালোভী‍‍` এবং তারা ‍‍`শরিয়া বোঝে না‍‍`, যার ফলে এমন ফলাফল। 

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে বড় দুই দলের মেরুকরণে ছোট দলগুলো পিষ্ট হয়েছে। এই বিপর্যয় ইসলামী আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক কৌশলের ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নির্বাচনের পর এই ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটি ভবিষ্যতে তৃণমূল পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন আনে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।