এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
বর্তমান সংসদ ও নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন যে নির্বাচনের ভাগ্য অনেক আগেই পর্দার আড়ালে নির্ধারিত করা হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে পুরো জাতিকে ব্লাকমেইলিং করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনের কার্যদিবসের শেষ পর্যায়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ওয়াক আউট করার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
তিনি দাবি করেন যে এই নির্বাচনের পেছনে থাকা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর অন্তত দুইজন রাজসাক্ষী পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে একজন সাবেক উপদেষ্টা এবং অন্যজন বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী নিজেই।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ড. ইউনুসের লন্ডনে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে যদি ড. ইউনুস লন্ডনে গিয়ে আগেই ‘ক্যাপ্টেনের’ হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে আসেন, তবে নির্বাচনের প্রয়োজন কী ছিল? তিনি অভিযোগ করেন যে পর্দার আড়ালে যোগাযোগের মাধ্যমেই নির্বাচনের ফলাফল ঠিক করে রাখা হয়েছিল।
যার প্রমাণ সাম্প্রতিক উপ-নির্বাচনগুলোতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিরোধীদলীয় নেতা মনে করেন জনগণের অধিকার নিয়ে এমন খেলা করা জাতির জন্য চরম লজ্জার বিষয়।সংসদ থেকে ওয়াক আউটের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে জামায়াত আমির জানান যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির কার্যক্রমে আস্থা হারিয়েছে বিরোধী দল। তিনি অভিযোগ করেন যে সরকারি দল সমঝোতা ভঙ্গ করে এককভাবে রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে আলোচনার বাইরে রেখে ‘ল্যাপস’ করার ষড়যন্ত্র করছে।
স্পিকার শুরুতে সবকটি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ মুহূর্তে তা থেকে সরে এসেছেন বলে তিনি দাবি করেন। বিশেষ করে দুদক, পুলিশ সংস্কার, গুম কমিশন ও পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো সরকার এড়িয়ে যেতে চাইছে বলে তিনি মনে করেন।সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল’ নিয়ে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে সরকারি ও বিরোধী দল আগে একমত হয়েছিল যে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশটি অপরিবর্তিত রেখে পাস করা হবে।
কিন্তু হঠাৎ করেই সরকারি দল এতে তিনটি সংশোধনী এনে বিষয়টিকে দলীয় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন যে তাঁরা এখানে ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে আসেননি, বরং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছেন। এছাড়া সংসদ সদস্যদের নথিপত্র সরবরাহের ক্ষেত্রেও সরকারি দল গাফিলতি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পরিশেষে বিরোধীদলীয় নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে ফ্যাসিজম টিকিয়ে রাখার জন্য যেসব বিল সরকার পাসের চেষ্টা করছে, তার বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি মনে করেন ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে গণতন্ত্রকে অপমান করা হচ্ছে। জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো পর্যায়েই চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন যে জনগণের রায় বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন রাজপথ ও সংসদে সমানতালে চলবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন