বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,

আন্তর্জাতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারছে না দেশ: জামায়াত আমির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

আন্তর্জাতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারছে না দেশ: জামায়াত আমির

ডা. শফিকুর রহমান

দেশ পরিচালনায় সরকারি স্লোগানের সঙ্গে বাস্তবায়নের কোনো মিল নেই এবং দেশ এখনো আন্তর্জাতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই সেমিনারে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেন।

জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে বলেন বর্তমানে পুরো সমাজ একটি গোঁজামিলের মধ্য দিয়ে চলছে। তাঁর মতে দেশ পরিচালনায় যারা দায়িত্বে আছেন তারা অতীত থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করছেন না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন মানুষের করা পাপ কখনো বাবকেও ছাড়ে না যার অর্থ প্রতিটি অপকর্মের পরিণাম ভোগ করতে হয়। 

সরকারি দলের বিভিন্ন প্রচারণার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে তাদের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে। অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংকটে নাকাল হচ্ছে।দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের পেছনের কারণ হিসেবে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন এই রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে যা শেষ পর্যন্ত কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

তিনি মনে করেন আন্তর্জাতিক মহলের প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটমুক্ত হতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। সেমিনারে তিনি কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ করে কৃষিখাতে জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়। জামায়াত আমিরের মতে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে যদি কৃষকরা সময়মতো ও সঠিক দামে জ্বালানি না পায় তবে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। 

তিনি দেশের স্বার্থে সব ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার আহ্বান জানান। সেমিনারে রাজনৈতিক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন যারা বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। মূলত বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক নীতিমালার অসংগতিগুলোই ছিল তাঁর আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।