বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,

শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের: জামায়াত আমির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের: জামায়াত আমির

শ্রমিক সম্মেলনে জামায়াত আমির -ছবি-দিনাজপুর টিভি

শ্রমিকদের সন্তানদের সুনাগরিক ও উচ্চশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে—আমরা এই নীতিতে বিশ্বাস করি না। শ্রমিকের সন্তানদের প্রধানমন্ত্রী হতে কোনো বাধা নেই। 

আমরা চাই শ্রমিকের ঘর থেকেও তাদের সন্তানরা প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসুক।” শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে সরকারের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেন, শ্রমিকরাও এই দেশের সম্মানিত নাগরিক এবং তারাও ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করে। 

তাই তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকারগুলোর দায়ভার কেবল মালিকদের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না, বরং রাষ্ট্রকে এখানে সরাসরি অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বিশেষ করে শিল্প ও শ্রমঘন এলাকায় সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং এসব চিকিৎসার ব্যয়ভার রাষ্ট্র ও মালিক পক্ষকে যৌথভাবে বহন করার পরামর্শ দেন।দেশের ক্রান্তিলগ্নে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—সবক্ষেত্রেই শ্রমিকদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। 

তিনি এক আবেগঘন তথ্যে জানান যে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রতিটি সরকারই শ্রমিকদের সামান্য দাবিগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, যারা ‘সোনার চামচ’ মুখে নিয়ে বড় হয়েছেন, তারা সাধারণ শ্রমিকের দুঃখ ও কষ্ট অনুধাবন করতে পারেন না।

মালিক ও শ্রমিকের পারস্পরিক সুসম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিল্প পরিবেশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মালিক বা উদ্যোক্তা না থাকলে শ্রমিকরা কাজ পাবে না, আবার শ্রমিক না থাকলে মালিকরা তাদের শিল্প চালাতে পারবে না। তাই আমরা মালিক বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে এবং শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে—এই নীতিতে বিশ্বাসী।” তিনি উভয় পক্ষকে সমন্বিত করে একটি উৎপাদনশীল ও শোষণমুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরির লক্ষ্য ব্যক্ত করেন।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিদায়ী সভাপতি আ ন ম শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই বিশাল সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই সমাবেশটি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের এক নতুন অঙ্গীকারে পরিণত হয়।