মে ৭, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই নিন্দা জানান।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ তাঁর বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচনি ফলাফলকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের টার্গেট করে যেভাবে সহিংসতা চালানো হচ্ছে, তা মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ‘মুসলমানরা তাঁকে ভোট দেয়নি’ মর্মে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও হামলাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়ার শামিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার এমন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব দাবি করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন বিজেপির উগ্র সমর্থকদের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে হামলা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
প্রতিবেশী দেশে মুসলমানদের ওপর চলমান এই হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাতে হবে এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিবেশী দেশে মুসলমানদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিষয়ে নীরবতা কাম্য নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে এই জোরালো প্রতিবাদ জানানো হলো। দলটির মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে ভারত সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মূলত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার প্রশ্নেই তাঁর এই কড়া হুঁশিয়ারি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন