শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,
ঈদুল আজহা

কোরবানির জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ১০:১৮ এএম

কোরবানির জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

কোরবানির পশুর যত্ন

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ঈদুল আজহা বা কোরবানি। এটি কেবল পশু জবাইয়ের আচার নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ত্যাগের এক মহান প্রতীক। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, কোরবানির প্রকৃত সুফল পেতে হলে একজন কোরবানিদাতাকে আগে থেকেই মানসিক ও ব্যবহারিক কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়।

কোরবানির প্রধান শর্ত হলো নিয়তের বিশুদ্ধতা। লোকদেখানো বা সামাজিক মর্যাদা রক্ষার পরিবর্তে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই ইবাদত করতে হয়। বুখারি শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, সমস্ত কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া কোরবানির পশু কেনার অর্থ অবশ্যই হালাল উপার্জনের হতে হবে। অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোরবানি ইসলামি শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।

পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথা বলা হয়েছে হাদিসে। কোরবানির পশু হতে হবে নির্ধারিত বয়সের এবং সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্ধ, রোগাক্রান্ত, খোঁড়া এবং অত্যন্ত দুর্বল পশুকে কোরবানির জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করেছেন। তাই কেনার সময় পশুর দাঁত, চোখ ও হাঁটাচলা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কোরবানিদাতার জন্য নিজের চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকা মুস্তাহাব। এছাড়া ৯ জিলহজ বা আরাফার দিনে রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এই দিনের রোজা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের উসিলা হতে পারে বলে মুসলিম শরিফে উল্লেখ আছে।কোরবানি সম্পন্ন করার পর সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে গোশত বন্টনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোরবানির গোশত সাধারণত তিন ভাগে বন্টন করা উত্তম। 

এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য এবং বাকি এক ভাগ অভাবী মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়।৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। কোরবানি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে। যথাযথ নিয়ম ও ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে ইবাদত সম্পন্ন করাই একজন সচেতন মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত।