মে ১৫, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুতে শরিক হওয়ার বিধান নিয়ে অনেক সময় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে গরু বা মহিষের একটি ভাগে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারবেন কি না, এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা অত্যন্ত স্পষ্ট।ইসলামি শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা একজনের পক্ষ থেকেই কোরবানি করতে হয়।
তবে গরু, মহিষ ও উটের মতো বড় পশুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি শরিক হতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো, পশুর প্রতিটি ভাগের অংশ যেন কমপক্ষে পূর্ণ এক-সপ্তমাংশ হয় এবং প্রতিটি ভাগ কেবল একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকেই হতে হবে।
সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেছেন যে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হুদায়বিয়ার বছরে একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করেছিলেন। এই হাদিস থেকে বড় পশুর অংশীদারিত্বের সীমা স্পষ্ট হয়। তবে বর্তমান সময়ে অনেক সময় পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে কোরবানির একটি শেয়ার বা ভাগ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
শরিয়ত অনুযায়ী, বড় পশুর এক-সপ্তমাংশ হলো একজন ব্যক্তির জন্য ন্যূনতম একক। যদি দুই বা তিনজন ব্যক্তি মিলে একটি ভাগ বা শেয়ার গ্রহণ করেন, তবে প্রত্যেকের অংশ এক-সপ্তমাংশের চেয়ে কমে যায়। নির্ভরযোগ্য হানাফি ফিকহ গ্রন্থ ‘বাদায়েউস সানায়ে’ এবং ‘ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া’র তথ্য অনুযায়ী, কোনো একজন শরিকের অংশ যদি এক-সপ্তমাংশের কম হয়, তবে ওই পশুর কোনো শরিকেরই কোরবানি সহিহ হবে না। এর কারণ হলো, কোরবানির প্রতিটি অংশে স্বতন্ত্র মালিকানা থাকা জরুরি।
হাম্বলি মাজহাবের বিশিষ্ট ফকিহ ইবনে কুদামা (রহ.)-ও তার ‘আল-মুগনি’ গ্রন্থে একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, এক পশুতে সাতজনের বেশি শরিক হলে কারো কোরবানিই শুদ্ধ হবে না। অর্থাৎ, গরু বা উটের প্রতিটি সাতটি ভাগের প্রতিটি অংশই একক মালিকানায় থাকতে হবে।
পারিবারিক বা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে যদি কয়েকজন মিলে একটি ভাগ নিতে হয়, তবে তার জন্য একটি বিকল্প সমাধানের কথা বলেন আলেমগণ। এক্ষেত্রে সরাসরি যৌথভাবে শরিক না হয়ে সংগৃহীত টাকা পরিবারের যেকোনো একজনকে উপহার বা ‘হেবা’ হিসেবে দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এরপর ওই ব্যক্তি নিজের নামে পূর্ণ এক ভাগে শরিক হবেন। এতে অন্তত একজনের কোরবানি সহিহভাবে আদায় হবে এবং বাকি সদস্যরাও সওয়াবের অংশীদার হবেন। কোরবানির পর তারা সবাই মিলে গোশত ভাগ করে নিতে পারবেন বলে ‘খুলাসাতুল ফতোয়া’য় উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলত কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন করা। তাই ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য তা সুনির্দিষ্ট মাসআলা ও বিশুদ্ধ নিয়ত অনুযায়ী আদায় করা প্রয়োজন। কোরবানিদাতার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন শরিয়তসম্মত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাই ইসলামের নির্দেশনা। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় বিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন