শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

জুমার দিন দোয়া কবুলের সময় ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম

জুমার দিন দোয়া কবুলের সময় ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত

জুমাবারের আমল ও ফজিলত

ইসলামে জুমাবারকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে স্বীকৃত। এই দিনের ফজিলত ও গুরুত্ব নিয়ে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। মুসলমানদের জন্য এটি শুধু ইবাদতের দিনই নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর স্মরণে নিজেকে নিমগ্ন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

পবিত্র কোরআনের সূরা জুমুআর ৯ নম্বর আয়াতে জুমার দিনে আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেনাবেচা বন্ধ করে আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.) তার ‘যাদুল মাআদ’ গ্রন্থে জুমার নামাজকে ইসলামের অন্যতম তাগিদপূর্ণ ফরজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি একে মুসলমানদের জন্য আরাফার সম্মিলনের পর সবচেয়ে বড় সমাবেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরের ওপর মোহর মেরে দেন। আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে যে যারা জুমার নামাজ ত্যাগ করবে, তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো দোয়াতে মগ্ন থাকা। সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন কোনো মুসলিম বান্দা ইবাদত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করে, তিনি তাকে সেটি দান করেন। এছাড়া আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত করে দেওয়া হবে।

এই দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সুনানে আবু দাউদের বর্ণনা মতে, জুমার দিন পাঠ করা দুরুদ নবীর কাছে পেশ করা হয়। পাশাপাশি এই দিন আগে আগে মসজিদে যাওয়া, গোসল করা এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার মতো আমলগুলো করার পরামর্শ দেন আলেমরা।

তবে হাদিসে জুমার রাত বা দিনকে আলাদাভাবে কিয়ামুল লাইল বা রোজা রাখার জন্য নির্দিষ্ট করতে নিষেধ করা হয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। আলেমদের মতে, জুমাবার মূলত দোয়া, জিকির ও খুতবা শোনার মতো আমলেই ব্যস্ত থাকার দিন। এর মাধ্যমে একজন মুসলিম সহজেই এই পবিত্র দিনের পূর্ণ ফজিলত অর্জন করতে পারেন।