মে ১৬, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর মাঝে আবারও উপস্থিত হচ্ছে পবিত্র জিলহজ মাস। ইসলামের বিধান অনুযায়ী জিলহজ মাসের অন্যতম মহিমান্বিত আমল হলো সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর নির্দিষ্ট পশু কোরবানি ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত হওয়া। তবে কেন এই বিধান শরিয়তে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তা প্রতিটি মুসলিমের দালিলিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা অত্যন্ত জরুরি।
কোরবানি ওয়াজিব আমল হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেওয়া একটি কঠোর হুঁশিয়ারিতে।মুসনাদে আহমদ ও মুস্তাদরাকে হাকেমের হাদিস অনুযায়ী নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যার কোরবানি করার সামর্থ্য আছে অথচ সে তা করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।
সামর্থ্য থাকার পরও যারা এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে, তাদের প্রতি আল্লাহর রাসুলের এই কঠোর ধমকই প্রমাণ করে এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। ইসলামি স্কলারদের মতে, এই নির্দেশনার মাধ্যমেই সামর্থ্যবানদের ওপর এই কোরবানি করা বাধ্যতামূলক হওয়া নিশ্চিত হয়।
সহিহ বোখারির বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারিতে বর্ণিত ৯৮৫ নম্বর হাদিসটি এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দলিল হিসেবে গণ্য করা হয়। উক্ত হাদিস অনুসারে নবী কারিম (সা.) ঈদের নামাজ আদায় করার পর খুতবা দিলেন এবং এরপর নিজে পশু জবেহ করলেন। সেখানে তিনি সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, কেউ যদি ঈদের নামাজের আগে পশু জবেহ করে ফেলে, তবে তাকে ওই পশুর বদলে পুনরায় আরেকটি পশু কোরবানি দিতে হবে।
শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী ভুল সময়ে কোনো আমল করার কারণে পুনরায় তা আদায়ের এই নির্দেশই প্রমাণ করে যে সামর্থ্যবানদের ওপর কোরবানি করা সম্পূর্ণ ওয়াজিব। বিখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ মাজমুউল ফাতাওয়াতে উল্লেখ করেছেন যে কোরবানি হলো ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুষ্পষ্ট নিদর্শন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন