মে ১৬, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত হওয়ায় সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর ছেলের উপার্জনে কোরবানি সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট বিধান জানা জরুরি। আমাদের দেশের সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপটে অনেক সময় সন্তান উপার্জনক্ষম হলেও বাবা পরিবারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এমন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ছেলের উপার্জিত অর্থে বাবার কোরবানি দেওয়া এবং যৌথ পরিবারের কোরবানির ক্ষেত্রে শরিয়তের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী একজনের কোরবানি দিয়ে অন্যজনের ওয়াজিব আদায় সাধারণত সম্পন্ন হয় না।১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যার কাছে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ, সাড়ে ৫২ তোলা রুপা বা সমমূল্যের অতিরিক্ত সম্পদ থাকবে, তিনি সাহেবে নেসাব।
জাকাতের মতো এই সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়, বরং কোরবানির তিন দিনের মধ্যে নেসাবের মালিক হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়। সন্তান যদি নিজের উপার্জিত অর্থ বা কেনা পশু বাবাকে উপহার হিসেবে দিয়ে দেয়, তবেই কেবল ছেলের উপার্জনে কোরবানি দেওয়ার পর বাবার পক্ষ থেকে ওয়াজিব আদায় হবে। অন্যথায় বাবার নিজস্ব নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তাঁর নিজের টাকা বা অনুমতি সাপেক্ষেই কেবল কোরবানি করতে হবে।
যৌথ পরিবারে একাধিক সদস্য সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও শুধু পরিবারের কর্তার নামে একটি কোরবানি দেওয়ার প্রচলিত ভুলটি প্রায়ই দেখা যায়। ইসলামে ইবাদতের দায়িত্ব সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং একজনের কোরবানিতে অন্যজনের আর্থিক ও ধর্মীয় দায়ভার কখনো মুক্ত হয় না। সুরা নাজম অনুসারে কোনো ব্যক্তি অন্য কারও আমলের বোঝা নিজে বহন করবে না। এই জটিলতা এড়াতে সামর্থ্যবান সদস্যরা একটি বড় পশু কিনে সর্বোচ্চ সাতজন আলাদা অংশ নিয়ে শরিক হতে পারেন।
যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে অথচ সে কোরবানি করে না, তাকে ঈদগাহের নিকটবর্তী না হওয়ার জন্য নবীজি (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো সহিহ নিয়ত এবং সঠিক শরিয়তি পন্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ। যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে প্রতিটি সামর্থ্যবান সদস্যের অংশ ও মালিকানা সুনির্দিষ্ট করার মাধ্যমেই কেবল ছেলের উপার্জনে কোরবানি ও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন