সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬,

বিশ্বনবী (সা.)-এর শাফাআত কী এবং কারা এই সৌভাগ্য লাভ করবেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১১:০০ এএম

বিশ্বনবী (সা.)-এর শাফাআত কী এবং কারা এই সৌভাগ্য লাভ করবেন

Ai - ছবি

ইসলাম ধর্মে শাফাআত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। শাফাআতের আভিধানিক অর্থ হলো কোনো একক বিষয়কে অন্য কিছুর সঙ্গে যুক্ত করে জোড়া বানানো, আর পারিভাষিক অর্থে এটি হলো অন্যের জন্য কোনো কল্যাণ লাভ বা ক্ষতি দূর করার উদ্দেশ্যে সুপারিশ কিংবা মধ্যস্থতা করা। কিয়ামতের ময়দানে মুমিনদের মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে নবী-রাসুল ও নেককার বান্দারা এই সুপারিশ করবেন। শাফাআত স্বাধীনভাবে কারো একক ক্ষমতায় নেই, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে মহান আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী শাফাআত কবুল হওয়ার জন্য প্রধানত তিনটি শর্ত পূরণ হতে হয়। প্রথমত, শাফাআতকারীর প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্ট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, যার জন্য সুপারিশ করা হবে, তার প্রতিও আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকা আবশ্যক। তৃতীয়ত, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে শাফাআত করার অনুমতি লাভ করতে হবে। পবিত্র কোরআনেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কারও পক্ষে সুপারিশ করার সাহস বা ক্ষমতা রাখে না।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শাফাআত বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হলো মহাশাফাআত বা ‘শাফাআতে কুবরা’, যা কিয়ামতের ময়দানে হিসাব-নিকাশ শুরু করার জন্য করা হবে। এ ছাড়া কবিরা গুনাহকারী উম্মতের মুক্তি, জাহান্নাম থেকে তাওহিদবাদীদের উদ্ধার, জান্নাতে মুমিনদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং কিছু মানুষের শাস্তি হালকা করার জন্যও শাফাআত করা হবে। বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের বড় গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্যও সুপারিশ করবেন বলে বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র নবীজির সুপারিশ বা শাফাআত লাভের জন্য ইসলামে নির্দিষ্ট কিছু আমলের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে আজান শেষে নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা অন্যতম। হাদিস অনুযায়ী, আজান শোনার পর শরিয়ত নির্ধারিত দোয়া পাঠ করলে সেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিন নবীজির শাফাআত লাভের বিশেষ অধিকারী হবেন। পাশাপাশি বেশি বেশি নফল নামাজ আদায়ের মাধ্যমেও প্রিয়নবীর সুপারিশ লাভ করা সম্ভব বলে বিভিন্ন হাদিসে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আধ্যাত্মিক ও পরকালীন মুক্তির এই শিক্ষা মুমিন মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক আমল ও সুন্নতের অনুসরণের মাধ্যমেই মূলত পরকালে বিশ্বনবীর সুপারিশ লাভের আশা করতে পারেন একজন মুমিন। ধর্ম ও জীবন পাতার পাঠকদের জন্য এই আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।