শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

কুমিল্লার মাটিতে রুশ জাতের আঙুর চাষে বাজিমাত

কৃষি ডেস্ক

জুন ৫, ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

কুমিল্লার মাটিতে রুশ জাতের আঙুর চাষে বাজিমাত

কুমিল্লার মাটিতে এখন শোভা পাচ্ছে আঙুর। প্রচলিত শস্য বা সবজি চাষের বাইরে নতুন কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন কৃষি উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান সেকুল। তার সেই প্রচেষ্টার ফসল এখন দৃশ্যমান। রুশ জাতের আঙুর চাষে তিনি যে সফলতা দেখিয়েছেন, তা স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া যে আঙুর চাষের জন্য উপযোগী, তার প্রমাণ মিলছে তার খামারের আঙুর গাছে।

অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরেই এমন সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।বিদেশি এই আঙুর চাষের সিদ্ধান্তটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। শুরুর দিকে অনেকের মনে সন্দেহ থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন তিনি। রুশ জাতের এই আঙুর গাছগুলো সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে বেড়ে উঠেছে। 

গাছের প্রতিটি ডালে থোকায় থোকায় আঙুর ঝুলে রয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ আর নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এই আঙুর বাগান তৈরি করেছেন।বাগানে আঙুরের মান ও স্বাদ বেশ ভালো।

কামরুজ্জামান সেকুলের সফলতা দেখে এখন অনেক তরুণ কৃষকের নজর এই দিকে ঘুরছে। অনেকে তার কাছে চাষাবাদের নিয়ম ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। আঙুর চাষ যে লাভজনক হতে পারে, তা হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়ার আগ্রহও তার মধ্যে দেখা যায়। নিয়মিত সেচ ও পরিমিত জৈব সারের প্রয়োগে গাছগুলো দ্রুত বেড়ে উঠছে। কোনো বড় ধরনের ঝামেলা ছাড়াই তিনি এই আঙুর চাষ পরিচালনা করছেন।

কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে উদাহরণ।এমন সফলতার গল্প কৃষি অর্থনীতিকে নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে। আঙুর কেবল শখের বসে নয়, বাণিজ্যিকভাবেও চাষ করা সম্ভব—এই বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সবার মাঝে। সরকারিভাবে সহায়তা পেলে এই চাষাবাদ আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। কৃষকদের জন্য এটি যেমন আয়ের নতুন উৎস, তেমনি ভোক্তাদের জন্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত টাটকা আঙুর পাওয়ার সুযোগ। তার এই উদ্যোগ কুমিল্লার কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই সবার প্রত্যাশা।