সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
গাজীপুর মহানগরীর পুবাইলে মাটি ছাড়াই সম্পূর্ণ অভিনব পদ্ধতিতে কৃষিকাজ শুরু করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় এক কৃষক। একচল্লিশ নম্বর ওয়ার্ডের সাপমারা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক ফেরদৌস মিয়া প্রচলিত আবাদি পদ্ধতির বাইরে গিয়ে মাটিবিহীন বা সয়েললেস পদ্ধতিতে এই ব্যতিক্রমী চাষাবাদ শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর তিন কাঠা জমিতে মাটির পরিবর্তে দুইশতটি পলিব্যাগে কোকোপিট ব্যবহার করে শসা চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নারিকেলের ছোবড়া প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি কোকোপিট মাটির বিকল্প হিসেবে দারুণ কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব। এই প্রক্রিয়ায় গাছের শিকড়ের জন্য প্রয়োজনীয় পানি, বাতাস ও পুষ্টি নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করতে বিশেষ সেচ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ছাদের ওপর স্থাপিত পানির ট্যাংক থেকে চিকন পাইপের মাধ্যমে প্রতিটি পলিব্যাগে স্যালাইনের মতো ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাগে এক ইঞ্চি দূরত্বে দুটি করে বীজ রোপণ করা হয়েছে।
ফেরদৌস মিয়ার সহযোগী ও ভাগনে শাহেদ সরকার জানান, ওপরে ঝুলন্ত পদ্ধতিতে কোকোপিটে চাষের পাশাপাশি নিচে মালচিং ব্যবহার করে একই সময়ে দুটি ভিন্ন ফসল ফলানো সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি অবকাঠামো তৈরিতে কিছুটা বেশি খরচ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী। একবার কাঠামো তৈরি করলে টানা দুই থেকে তিন বছর নতুন করে কোনো খরচ ছাড়াই নিরাপদ চাষাবাদ করা যায়।
গত কয়েক বছর ধরে আবহাওয়ার বিরূপ আচরণে ফলন কমে যাওয়ার কারণেই মালয়েশিয়া প্রবাসী এক কৃষকের সাফল্য দেখে তাঁরা এই পদ্ধতিতে উৎসাহিত হন বলে জানা গেছে। বর্তমানে আবাদি জমি কমে যাওয়া ও খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে এই মাটিবিহীন চাষাবাদ নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রথম ধাপে শসা চাষে আশানুরূপ ফলন পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিভিন্ন ফল ও সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন এই উদ্ভাবনী কৃষক।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন