শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

তাজমিন কি আসলেই কক্সবাজার গিয়েছিল, কেন? কী বলছে পুলিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

তাজমিন কি আসলেই কক্সবাজার গিয়েছিল, কেন? কী বলছে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার থেকে বাসে করে কুমিল্লায় ফেরার পর সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্‌ঘাটনে জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গত ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হয়ে একপর্যায়ে কক্সবাজারে যায় ওই কিশোরী। পরবর্তীতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে সেখান থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় সে। একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে মেয়েটি। এরপর গভীর রাতে কীভাবে সে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার নির্জন ধানক্ষেতে পৌঁছাল এবং সেখানে হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে সুমন নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে আটক করেছে পুলিশ। তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। একই সঙ্গে মেয়েটিকে বহনকারী সম্ভাব্য অটোরিকশাটি শনাক্ত করে তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ধানক্ষেত থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে তীব্র ধস্তাধস্তি ও ছোটাছুটির আলামত পেয়েছে অপরাধ তদন্ত দল। পুলিশের ধারণা, অপরাধীদের কবল থেকে আত্মরক্ষার জন্য কিশোরীটি মরিয়া হয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সকালে যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মেয়েটির দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ায়। বাবার একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে তারা কুমিল্লা শহরে বসবাস করতেন এবং মেয়েটি স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। সে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল।

নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। তখন মেয়েটি জানায় যে সে এক বান্ধবীর সঙ্গে রয়েছে এবং তাকে সেখান থেকে দ্রুত নিয়ে যেতে বলে। তবে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বান্ধবীর নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি সে। মা ওই বান্ধবীর ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নিহতের বাবা জানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে দুইটার দিকে মেয়ের মোবাইল থেকে একটি খুদে বার্তা ও সরাসরি অবস্থান বা লাইভ লোকেশন পাঠানো হয়েছিল, যেখানে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলা হয়।

ঘুমিয়ে থাকায় তিনি রাতে বার্তাটি লক্ষ্য করতে পারেননি। পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে বার্তাটি দেখে অবস্থান শনাক্ত করে মেয়ের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময়ই তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।