রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,

নিজেকে প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৪, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম

নিজেকে প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ

ছবি - সংগৃহীত

প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানো ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরনীদাসের ছেলে হরিদাস। ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর দেশে ফেরেন হরিদাস। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সরকারি চাকরি ও বদলি করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিতেন তিনি। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পাদিত ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকল দেখাতেন।

সিআইডি তার ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। তার বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার হিসাবে জমা হয়েছে, যা তার পেশা ও আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এর আগেও তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে নতুন এই মামলা করা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে হওয়া সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।